খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের জাতীয় কাউন্সিল’২৩ ও উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২ আগস্ট) মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের মধুপুরস্থ জামি’আ ইসলামিয়া হালীমিয়া মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির ও মধুপুর পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ বলেন, অনতিবিলম্বে সংসদে আইনের মাধ্যমে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। আমরা মুসলমান। আমাদের বিশ্বাস হলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল। তারপরে নতুন করে কেউ নবী-রাসুল হিসেবে আগমণ করবে না। এটা কুরআন-সুন্নাহ ইজমা-কিয়াসের সর্বসম্মত বক্তব্য। উপরোক্ত বিষয়টি দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস। যা অস্বীকার করলে কিংবা সন্দেহ পোষণ করলে ঈমান থাকে না। অথচ তথাকথিত ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ নামধারী কাদিয়ানীরা নিজেদের মুসলিম দাবি করলেও উল্লেখিত বিশ্বাসটি অস্বীকার করে এবং ভারতের জন্ম নেওয়া গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নিজেদের নবী ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করে। যার ফলে তারা মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস থেকে বের হয়ে যায়। তাদের নতুন এক ধর্ম বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটা হল কাদিয়ানী ধর্মমত। সুতরাং তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করলে তারা তাদের নতুন ধর্ম কাদিয়ানী ধর্মের অনুসারী হিসাবে এদেশে বসবাস করবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন জাতি ধর্মের মানুষ এদেশে একসাথে বসবাস করে। বাংলাদেশের ৯০% নাগরিক ইসলাম ধর্মের অনুসারী-মুসলিম। সকল ধর্মের অনুসারীগণ স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে। বাংলাদেশের মহান সংবিধানেও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংরক্ষণের কথা সুস্পষ্টভাবে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানীদের অসংখ্য কুফুরী মতবাদ এর মধ্যে একটি মতবাদ হলো এই, ‘মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী প্রতিশ্রুত মাসীহ, ইমাম মাহদী এবং প্রেরিত নবী ও রসূল’ (নাউজুবিল্লাহ ) (রুহানী খাযায়েন-খ:১৮ পৃ:২০৭, কালিমাতুল ফসল-১৫, লেখক: মির্জাপুত্র বশির আহমদ এম এ, আখবারে বদর আল:২ পৃ:৪৩) এসকল অসংখ্য কুফুরী মতবাদ প্রচার করে তারা সরলমলা মুসলমানদের ঈমান ধ্বংস করছে।
সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে এবং ইসলামের নামে তাদের সকল প্রকাশনা, প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করতে হবে, ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করা অমুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণ অবৈধ। অতএব ইসলামের সকল পরিভাষা যেমন কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, মসজিদ, আজান, ইকামত, নবী, মাহদী শব্দ ইত্যাদি তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, কাদিয়ানীরা শত শত একর জমি ক্রয় করে রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা রাষ্ট্র কায়েম করার পরিকল্পনা করছে, তাদের এই পরিকল্পনা ধ্বংস করে দিতে হবে। আমরা সরকারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
তারা আরো বলেন, এ সরকারের সবাই জানে কাদিয়ানীরা অমুসলিম। সুতরাং কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে বাধা কোথায়?
তারা বলেন, মধুপুর পীরের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন জোরদার করে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
সম্মেলনে বক্তারা কারাগারে বন্দী নিরীহ আলেমদের মুক্তি এবং মাদরাসা ছাত্র হাফেজ রেজাউল করিম হত্যার বিচার দাবি করেন।
দাবী :
১. ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ আব্দুল জলিল ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আইনের দৃষ্টিতে কাদিয়ানীরা অমুসলিম বলে যে রায় প্রদান করেছে অতিসত্বর তা জাতীয় সংসদে বিল পাস করে কাদিয়ানীদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা করতে হবে।
কর্মসূচি :
১। আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল জেলায় কমিটি গঠন।
২। দেশের প্রত্যেক জেলার ডিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
৩। রাজধানী ঢাকায় খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ।
৪। আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর ন্যায় পঞ্চগড়ে খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন।
৫। কুচিয়ামোড়া খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেল।
মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী, হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ, মুফতী নাজমুল হাসান বিন নুরী ও মাওলানা আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক,জামিয়া মুহাম্মদিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মেরাজনগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রশিদ আহমদ, শাইখুল হাদীস মাওলানা ইসমাইল নূরপুরী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আশিকুর রহমান কাসেমী, মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল-আযহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতী সাখাওয়াত হোসেন রাজী, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, দারুল উলুম রামপুরার মুহতামিম মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ , আফতাবনগর মাদরাসার মুহতামিম মুফতী মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মোস্তাকিম বিল্লাহ হামিদী, মুফতী রেজাউল করিম আবরার,ঝালকাঠির নেছারাবাদ দরবার শরীফের পীর মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, নরসিংদী দত্তপাড়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শওকত হোসেন সরকার, জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়ার শিক্ষা সচিব মাওলানা আশরাফুজ্জামান, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মুফতী রশিদ বিন ওয়াক্কাস, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, নারায়ণগঞ্জ আমলাপাড়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কাদের,আজাদ দ্বীনী এদারা সিলেটের সেক্রেটারি মাওলানা শায়খ আব্দুল বছির, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী, ইসলামপুর কামিল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিউদ্দিন আল হুসাইনী, সৈয়দপুর মাদরাসার মুহতামিম মুফতী বশির আহমদ, জামিয়া রাহমানিয়া মৌলভীবাজারের মুহতামিম মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মাওলানা ইমদাদুল হক শায়খে বালিয়া, বালিয়া মাদরাসা ময়মনসিংহের মুহতামিম মাওলানা ওয়াজ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, মাওলানা আলী আহমদ চৌধুরী, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, মাওলানা আকরাম আলী শিবচর, জাতীয় সিরাত কমিটির মহাসচিব মুফতী মুজিবুর রহমান, মাওলানা ইউনুস কাসেমী শ্রীনগর, মাওলানা ইউনুস কাসেমী হাঁসাড়া, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুফতী সালাউদ্দিন আহমাদ দিলুরোড, যাদুরচর মাদরাসা সাভারের মুহতামিম মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ ঢাকা জেলা সভাপতি মুফতী মাহবুবুর রহমান নবাবগঞ্জী, মুফতী হাফিজুল্লাহ কাসেমী গাজীপুর, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ সভাপতি মাওলানা আবু বকর, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা সভাপতি মাওলানা শফিউল্লাহ খান, দারুল এহসান ক্যাডেট মাদরাসা শরীয়তপুরের পরিচালক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, পীরজাদা হাফেজ মাওলানা ত্বহা ও পীরজাদা হাফেজ মাওলানা হানজালা বাহাদুরপুর, কচুয়া মাদরাসা চাঁদপুরের মুহতামিম মুফতী আবু হানিফ, কেরানীগঞ্জ উলামানগর মাদরাসার মুফতী আফজাল হোসাইন রাহমানী, মুফতী ফয়জুল্লাহ আশরাফী ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আনসারী মিরপুর, মাওলানা গাজী ইয়াকুব আলী উসমানী বি-বাড়িয়া, মাওলানা সৈয়দ সালিম কাসেমী সিলেট, মুফতী নিসার আহমদ মুন্সিগঞ্জ, মুফতী মিজানুর রহমান সোনাহাজরা, মুফতী মাহবুবুর রহমান জিয়া সৈয়দপুর, মুফতী মুরশিদুল আলম, মুফতী হারুনুর রশিদ, মাওলানা শফিক সাদী, মাওলানা আনোয়ার হামিদী, মুফতী শেখ বোরহান উদ্দিন নবাবগঞ্জ, মাওলানা রুহুল আমিন নগরী নেত্রকোনা, মুফতী আব্দুল্লাহ ফিরোজী, মুফতী খালেদ সাইফুল্লাহ নোমানী, মুফতী মেরাজ হোসাইন,মুফতী মাসুদুর রহমান আইয়ুবী ও মুফতী হেলাল আমিনসহ সারাদেশ থেকে ১২ শত প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ ইমাদুদ্দীন। কাউন্সিলে মধুপুর পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ সভাপতি ও মুফতী মোহাম্মদ ইমাদ্দিনকে মহাসচিব করে ২৪৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়











