ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এই নিয়ে টানা তিন দিন ধরে চলমান রয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন অবমাননা।
বুধবার (২ আগস্ট) দেশটিতে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাসের সামনে কুরআনের একটি অনুলিপি পুড়িয়ে দেয় দেশটির ডেনিশ প্যাট্রিয়টস নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠন। একই সময়ে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যানার ও অপমানজনক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও তুরস্কের তৈরি পণ্য বয়কট করারও আহ্বান জানায় উগ্রপন্থী এ সংগঠনটি। এসময় তাদের নিরাপত্তায় স্থানীয় পুলিশ নিয়োজিত ছিল।
বিশ্বব্যাপী কঠোর নিন্দা চলা সত্ত্বেও এর আগের দিন (মঙ্গলবার) তুর্কি দূতাবাসের সামনে একই কাজ করে উগ্রপন্থী সংগঠনটির সদস্যরা। সেখানে তারা পবিত্র কুরআন পোড়ানোর পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেনের লিখিত একটি গ্রন্থ পুড়িয়ে দেওয়ারও দাবি করে।
এর আগের দিন (সোমবার) দেশটির সৌদি দূতাবাসের সামনে পবিত্র কুরআন পুড়িয়ে দেয় এই একই গোষ্ঠী। পুলিশি নিরাপত্তায় তারা কুরআনের একটি অনুলিপি পদদলিতও করে। এছাড়াও এসব অপমানজনক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত সোমবার, কুরআন পোড়ানোর বিষয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
এ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ডেনিশ প্যাট্রিয়টস তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছে, “যেহেতু মুসলিম বিশ্বের ৫৭ টি দেশ পশ্চিমে কুরআন পোড়ানো বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করছে, তাই আমরা মনে করি আমাদের আরো বেশি কুরআন পোড়ানো উচিত।”
আর ঠিক একই দিনে, সুইডেনে বসবাসরত ইরাকি নাগরিক সালওয়ান মোমিকা দেশটির পার্লামেন্টের সামনে কুরআন পুড়িয়ে দেয় ও ইসলাম ধর্ম নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন এক টুইট বার্তায় বলেন, “সাম্প্রতিক কুরআন পোড়ানোর নিন্দা জানায় ডেনমার্ক। এছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে ড্যানিশ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও খোঁজা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে উত্তর ইউরোপে অবস্থিত নর্ডিক দেশগুলোতে কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: ইয়ানি সাফাক












