ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত গুরুগ্রামে উগ্র হিন্দুত্বাবাদীদের হামলায় একটি মসজিদের ইমাম নিহত হয়েছে। এসময় হামলাকারীরা মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গুলিও চালায়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গুরুগ্রামের আন্জুমান জামে মসজিদে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর মৃত ইমাম মাওলানা সাদের ভাই গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার আগের দিন রাত ১১.৩০ মিনিটে নিহত ইমামের সঙ্গে কথা হয় পরিবারের। এসময় তিনি সেখানে দুই গাড়ি পুলিশের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান। একবারে ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার।
পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিহত হওয়ার ঠিক এক মাস পূর্বে ইমাম মাওলানা সাদ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটি বার্তায় লেখেন, “হে আল্লাহ আপনি দয়া করে ভারতবর্ষকে এমন একটি জায়গায় রূপান্তরিত করুন যেখানে হিন্দু ও মুসলিমরা একই প্লেটে খাবার খেতে পারে।”
হত্যাকাণ্ড টি এমন একটি সময় ঘটেছে যার ঠিক কয়েক ঘন্টা পূর্বেই হারিয়ানা রাজ্যের নুহ ও গুরুগ্রাম জেলায় ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুই মুসলিম যুবককে হত্যার দায়ে প্রধান অভিযুক্ত হারিয়ানার উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের কর্মী মনু একটি ভিডিওর মাধ্যমে এ ধর্মীয় মিছিলে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেয়।
তার উপস্থিতির জের ধরে কয়েকজন মুসলিম এ মিছিলটি থামানোর চেষ্টা করে। ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এ সহিংসতার ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে আরো ২০০ জন।
এ ঘটনার পর চারিদিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তবে এসব করেও থামানো যায়নি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের। তারা মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাট, মসজিদ ও ফুটপাতের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলিতে হামলা চালায়।
আজাদ খান নামে গুরুগ্রামের একজন বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, “উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা দোকান-পাটের সামনে টানানো মুসলিম নাম দেখে হামলা চালিয়েছে।”
গুরুগ্রামের বাসিন্দারা জানান, সহিংসতা পরবর্তী সময়ে সেখানকার উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের সদস্যরা রড ও বন্দুক নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখে যেখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টি মুসলিম পরিবার বসবাস করে।
গুরুগ্রামের পুলিশ কমিশনার কালা রামচন্দ্রন আল জাজিরাকে বলেন, “অগ্নি সংযোগের ফলে বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তারা কোন দলের সঙ্গে জড়িত নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।”
হারিয়ানা রাজ্যের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী জানান, নুহ ও গুরুগ্রাম জেলায় সহিংসতার ঘটনায় মোট ১১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি ইমাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তিনি বলেন, “নূহ জেলায় সংগঠিত সহিংসতার পেছনে যারা রয়েছে তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আমরা জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গুরুগ্রামে জনসম্মুখে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করে আসছে।
সূত্র: আল জাজিরা











