গত বুধবার ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার বিষয়ে আমেরিকার সাথে একমত হয়েছে সৌদি আরব। এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমেরিকা ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।’ তবে এ প্রতিবেদনটি অস্বীকার করে তা বানোয়াট বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, এই প্রতিবেদনটি ‘কিছু লোককে এই ধারণা দিয়েছে যে তারা আসলে যা ধারণা করে তার থেকে আলোচনাটি আরো দূরে রয়েছে এবং কিছু দিক দিয়ে কাছাকাছি রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, “এখানে অনেক কথা রয়েছে যা আমাদের সেখানে পৌঁছানোর আগে ঘটতে হবে। তাই মূল কথা হল আলোচনায় বসার মত কোন সম্মতি এখানে নেই। এই অঞ্চলে আমাদের বন্ধুদের সাথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অথবা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কোন ধরনের সম্মতিও নেই।”
তিনি আরো বলেন, “তবে এ বিষয়ে আলোচনা বা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রিয়াদ ও তেল আবিব একটি ‘বিস্তৃত চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে যেখানে মার্কিন আমেরিকা সৌদি আরবকে ‘আইরোন ক্লাড’ নিরাপত্তা দেবে। আর এ নিরাপত্তার বিনিময়ে দেশটি ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এছাড়াও চুক্তিতে সৌদি আরবের বেসামরিক একটি পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে সহায়তা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিস্তৃত এ চুক্তি অনুযায়ী একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেও সম্মত হবে ইসরাইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃঢ় আপত্তি তুলেছিল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
কারণ এযাবৎকাল ধরে তার সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে আসছে। শুধু তাই নয় তারা ফিলিস্তিনিদের ভূমি আরো বেশি দখল করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইল ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দ্বী রাষ্ট্রীয়-সমাধানের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন রিয়াদের কাছ থেকে চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি চেয়েছে। এছাড়াও আগামী এক বছরের মধ্যে এ চুক্তিটি কার্যকর হবে বলেও আশা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনটি হোয়াইট হাউস অস্বীকার করলেও আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটিকে অতিবাস্তব/অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সাংবাদিকদের বলেন, “বেশ কয়েকটি বিষয়ে আমরা অগ্রসর হয়েছি। তবে এটি এখন জানাতে চাচ্ছি না। কারণ এটি একটি অনিশ্চিত বিষয় যা বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়েছে। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই আমরা এটি চালিয়ে যাব।”
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











