জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৩-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনের ৫ জন হাফেজের হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৩ আগস্ট (রবিবার) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজনে এই রস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ মুহাম্মাদ আবু জাফর শাকীলের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ জমাদ্দার।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার পরিবারের শহীদদের জন্য আপনারা দু’আ করবেন আল্লাহ তায়ালা যেন তাদেরকে জান্নাত নসিব করেন।
তিনি বলেন, আমি কোনদিন ভয় পাইনি। আল্লাহ মানুষকে কাজ দেন, আমি সেই কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন এটা আমার বিশ্বাস। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক-কে মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা পাঠিয়েছেন। তিনি ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। তখন কিন্তু প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন একজন নারী। তিনি সাহস করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করতেন, সম্পদশালী একজন মহিলা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিবি খাদিজা। আমি তার কথা সবসময় স্মরণ করি। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন।
কুরআনে হাফেজদের মর্যাদার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুরআন হিফজের মধ্যে মর্যাদা ও সম্মান। হাদিসে এসেছে, তোমাদের মধ্যে সে উত্তম যে নিজে কুরআন শেখে ও শেখায়। যখন করোনা চলছিল, আমাকে জানানো হলো দীর্ঘদিন হিফজখানা বন্ধ থাকলে বাচ্চারা কুরআন ভুলে যাবে। অনেক বাঁধা ছিল, আমি সব বাঁধা উপেক্ষা করে মাদরাসা খুলে দেই। সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেছি।
নানুপুরের পীর ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী বলেন, শিশু-কিশোর হাফেজরা বরাবরই আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সুনাম অর্জন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদা সমুন্নিত করছে। আমি সেসব কুরআনের পাখিদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে অভিহিত করব।
তিনি আরও বলেন, তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের ওপর দায়িত্ব। সরকারের সম্মানিত ব্যক্তিদের হাত থেকে আজকের পাওয়া সম্মাননা হাফেজদের সামনের পথ চলাকে আরও বেগমান করবে ইনশাআল্লাহ। কুরআনের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্য সরকারের সমর্থন দেশ ও জাতির জন্য অবশ্যই গৌরবের বিষয়। কুরআন মুসলমানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।
সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশি হাফেজদের সাফল্য তুলে ধরে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, বিশ্বব্যাপী আয়োজিত কুরআন প্রতিযোগিতায় শতাধিক দেশের হাফেজদের পেছনে ফেলে কুরআনের পাখিরা বিজয়ী হয়ে ফিরছেন। বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, শিক্ষা-বিজ্ঞান অন্য কোথাও এত সুস্পষ্টভাবে বিদেশের বুকে অগ্রসর নয়।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বিজয়ী ৫ জন হাফেজকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট এবং প্রাইজমানী তুলে দেওয়া হয়। যে পাঁচজন পবিত্র কুরআনে হাফেজ:- মুহাম্মাদ আফফান বিন সিরাজ-ঢাকা, মুহাম্মাদ ওসমান গনি-পঞ্চগড়, মুহাম্মাদ আবু জাফর শাকীল-ঢাকা, মুহাম্মাদ খালেদ সাইফুল্লাহ-মাদারীপুর, মুহাম্মাদ মুতাসিম বিল্লাহ, ঝালকাঠি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ দ্বীনি সেবা ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্টপোষক মুহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ দ্বীনি সেবা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ফরিদুল হক খান এমপি।











