ইউরোপের বুকে অবস্থিত অন্যান্য দেশের তুলনায় ফ্রান্সে মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষী বেশি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের একজন অধ্যাপক। এছাড়াও ফ্রান্স জুড়ে চলমান ইসলামবিরোধী মনোভাব দেশটির শিল্প ও সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাগিহান হ্যালিলোগ্লু নামের এই অধ্যাপক বহুবছর ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করছেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে ইস্তাম্বুলের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সোমবার (২১ আগস্ট) আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক কৌশলের (সোশাল ইন্জিনিয়ারিং) কারণে পশ্চিমে আজ ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পশ্চিমের রাজনীতিবিদরা মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করলেও তারা নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায় বিচারের মতো সমস্যা সমাধান করেন না। তাদের উদ্দেশ্য ভোটারদের সন্তুষ্ট করা।
নাগিহান বলেন, “পশ্চিমে ইসলামী মূল্যবোধের অপব্যবহারের মাধ্যমে অমুসলিমদের ভীত করে রাখা হয়। এটি তারা যুগ যুগ ধরে করে আসছে।”
তারা জনগনকে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা প্রদান করে। অতঃপর জনগণকে জিজ্ঞেস করে “আপনারা কি এটার সম্মুখীন হতে চান?”
তিনি বলেন, ইসলামকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর প্রবণতা শুধুমাত্র রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আজ ফ্রান্সের শিল্প ও সাহিত্যের মধ্যেও প্রবেশ করেছে।
এ ক্ষেত্রে তিনি ফ্রান্সে ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব তৈরীর অন্যতম মূল হোতা হিসেবে দেশটির নোবেলজয়ী লেখক ও সাহিত্যিক মিশেল হাউলেবেকের নাম সামনে এনেছেন।
নাগিহান বলেন, হাউলেবেক তার লেখা উপন্যাস সাবমিশনে ফ্রান্সকে ইসলামিকরণের বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন। যার উদ্দেশ্য ছিল এটি নিয়ে কথা বলা যে দেশটি ইউরোপীয় সংস্কৃতি ছেড়ে ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হতে আর কতটা দূরে রয়েছে।
উপন্যাসটিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ও পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখেছে এমন একটি মুসলিম দল ফ্রান্সের ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হতে সক্ষম।
এ উপন্যাসটি সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইসলামী ফ্রান্সের জনগণ যা করতে চায় তা হল নারীদের ঘরে বন্দি করা। ইউরোপিয়ানরা নিজেদের কাছে থাকা সংবাদের ভিত্তিতে এটি বিশ্বাস করে যে প্রত্যেক মুসলিম প্রধান দেশ গুলিতেই নারীদের সাথে এমন ঘটনা ঘটছে।”
নাগিহান বলেন, “ইতিহাস জুড়ে দেখা যায় ফরাসিরাই সর্বপ্রথম ইউরোপীয় জনগণের মাঝে তাদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় বেশি আগ্রহী ছিল। ফরাসিরা একজন মুসলিমকে কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারেনা। যার পেছনে উল্লেখযোগ্য একটি কারণ রয়েছে”
তিনি আরো বলেন, “ফ্রান্সের কাছ থেকে আলজেরিয়ার সুচিন্তিত বিচ্ছিন্নতা ফরাসিদের জন্য একটি বড় আঘাতের জন্ম দিয়েছে।”
সূত্র: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি











