ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের আরো একটি বীভৎস রূপ সামনে এলো। হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে এক মুসলিম শিশু শিক্ষার্থীকে তারই সহপাঠী দারা নির্যাতন করাচ্ছে হিন্দু শিক্ষিকা। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশের একটি বেসরকারি স্কুলে ওই শিক্ষিকা হিন্দু স্কুলছাত্রদের মুসলিম ছেলেটিকে থাপ্পড় মারতে বলছেন এবং জোরে আঘাত করতে না পারায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করছে।
ত্রিপ্ত ত্যাগী নামে ওই হিন্দু শিক্ষিকা ছেলেটিকে তার মুসলিম ধর্মের কারণে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কথাও বলেন। ভিডিওতে, তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি সমস্ত মুসলিম শিশুদের মারধর করেন। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে একজন লোককে হাসতে এবং ওই শিক্ষিকার প্রশংসা করতে শোনা যায়। ওই শিক্ষিকা চরম ইসলাম-বিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিম ছেলেটিকে কঠোরভাবে আঘাত না করার জন্য অন্য শিশুদের তিরস্কার করছিলেন।
ত্যাগীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আমি ঘোষণা করেছি যে সমস্ত মুসলিম শিশুদের চলে যেতে হবে।” এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের পুরুষ কণ্ঠটি বলে ওঠে, “আপনি ঠিক বলেছেন, এটি (মুসলিমদের উপস্থিতি) শিক্ষার ক্ষতি করে।” এ সময় অবমাননাকর আচরণ ও লাঞ্ছনার শিকার আতঙ্কিত মুসলিম শিশুটিকে ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে কান্না করতে দেখা যায়।
প্রায় এক দশক আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে মুসলিম বিরোধী ঘৃণামূলক অপরাধ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সাত বছর বয়সী মোহাম্মদ আলতামাশের বাবা-মা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের নেহা পাবলিক স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। তার মা রুবিনা বলেন, “গতকাল আমার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে। সে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিল। বাচ্চাদের সঙ্গে কেউ এরকম আচরণ করে না।”
তার বাবা মোহাম্মদ ইরশাদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, শিক্ষিকা সহপাঠীদের আমার ছেলেকে একে একে থাপ্পড় দিতে বলেছিলেন। শিক্ষিকা তার এই নিষ্ঠুর কর্মের পক্ষে এই বলে সাফাই গেয়েছেন যে, আমার ছেলে তার পড়া মুখস্থ করেনি। ৪২ বছর বয়সি ইরশাদ আরো বলেন, আমার ছেলে পড়াশোনায় ভালো। তাকে হোম টিউটর পড়ায়। কেন শিক্ষক তার সাথে এমন আচরণ করলেন তা আমরা বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে শিক্ষকের মনে প্রচণ্ড ঘৃণা রয়েছে। ইরশাদ বলেন, তার ছেলের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তা ছিল দেশে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে তার ফল।











