ভারতে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুসলমানরাই আত্মত্যাগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের মুসলিম নেতা অলইন্ডিয়া মজলিম-ই-ইত্তেহাদ-উল মুসলিমিন (মিম) এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
ভারতীয় লেখক আবদুর রহমানের লিখিত “আ্যবসেন্ট ইন পলিটিক্স অ্যান্ড পাওয়ার: পলিটিক্যাল এক্সক্লুশন অফ ইন্ডিয়ান মুসলিমস” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলিমদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের দাবি আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হবে। অন্যথায় তাদেরকে আরো বেশি কোনঠাসা করে রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিককালে গঠিত “ইন্ডিয়া জোটে” মুসলিম দলগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির প্রতি তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি।
কেরালা রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াইসি বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কেরালার মুসলিমরা অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। উপযুক্ত প্রতিনিধি থাকার কারণে সেখানের মুসলিমরা রাজনৈতিকভাবে উন্নতি লাভ করেছে।
এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) মুখপাত্র মনোজ কুমার। তিনি সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য বেসামরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশ ভাগ হওয়ার সময়ের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ। এটি ক্রমশ সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে।
তার মতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পরাজিত হলেও সাম্প্রদায়িকতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে না।
এ বইটিকে একটি নথি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তিত হবে না। দেশ ভাগের সময় সাম্প্রদায়িক ঘৃণা একটি ব্যাধির মত ছিল। কিন্তু এই ব্যাধি বর্তমানে একটি মহামারীতে পরিণত হয়েছে যা সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য; লেখক আবদুর রহমান মহারাষ্ট্রের একজন আইপিএস অফিসার। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের প্রতিবাদে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন তিনি।
তার লিখিত এই বইটিতে তিনি, ভারতীয় মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বঞ্চনার জন্য দায়ী বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন। এছাড়াও রাজনীতি থেকে মুসলিমদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে “জাতীয় সমস্যা” হিসেবে স্বীকৃত দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: মুসলিম মিরর











