গত বুধবার, গোপন ভোটাভুটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা “মহিলা সংরক্ষণ বিল” পূর্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী পাস হয় লোকসভায়। গত তিন দশক ধরে ভারতীয় সংসদে এটি অমীমাংসিত ছিল।
তবে সদ্য পাশ হওয়া বিলটি শুধুমাত্র উচ্চ বর্ণের নারীদের সক্ষমতা প্রদান করবে বলে মন্তব্য করে এর বিরোধিতা করেছেন ভারতের মুসলিম নেতা অলইন্ডিয়া মজলিম-ই-ইত্তেহাদ-উল মুসলিমিন (মিম) এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
এছাড়া “ওবিসি” ও মুসলিম মহিলাদের ভারতীয় সংসদে প্রতিনিধি সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও তাদের কোটা প্রদান করা হচ্ছে না কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ওয়াইসি বলেন, “আমি এই আইনের বিরোধিতা করছি…যদি আরো বেশি সংখ্যক নারীদের সংসদে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিলটি পাস করা হয়, তবে সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী ওবিসি ও মুসলিম নারীদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কম।”
তিনি বলেন, “আমরা জানি ভারতীয় মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ হল মুসলিম নারীরা। কিন্তু এই লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ০.৭ শতাংশ।”
গত বুধবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ১২৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসাবে এটি লোকসভায় পেশ করেন।
বিল অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারী রাজনীতিবীদদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ সালের আদমশুমারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে।
ওয়াইসি বলেন, “এই মোদী সরকার উচ্চ বর্ণের মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চায়। তারা ওবিসি ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চায় না। লোকসভায় মোট ৬৯০ জন নারী সাংসদ নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ জন মুসলিম সম্প্রদায় থেকে এসেছে।”
তিনি বলেন, “আমি শুনেছি ধর্মীয় ভিত্তিতে রিজার্ভেশন (সংরক্ষণ) দেওয়া যায় না? তাহলে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ কি? আপনি এই রিজার্ভেশনে মুসলিম নারীদের কোটা বাতিল করে তাদের সাথে প্রতারণা করেছেন।”
তিনি বলেন, মুসলিম নারীরা দ্বৈত ভেদাভেদের সম্মুখীন হন। এছাড়াও ক্ষমতাসীন বিজেপি মুসলিম ও ওবিসি নারীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
ওয়াইসি বলেন, “এই বিল ওবিসি সম্প্রদায়কে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে। এছাড়াও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব করার দরজা বন্ধ করে দেবে।”
সর্বশেষ তিনি এটিকে একটি ‘প্রতারণা বিল’ বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য; এই বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম।’ গত বুধবার ৪৫৪ জন সাংসদ এই বিলের স্বপক্ষে ভোট দেন। বিলে সংশোধন চেয়ে বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন মাত্র দু’জন। যার মধ্যে একজন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং অন্যজন তাঁর দলেরই সাংসদ ইমতিয়াজ জলিল।
লোকসভায় এই বিল পাশ হওয়ার পরই টুইট করে সকল সাংসদদের সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সূত্র: মুসলিম মিরর











