কারাগারে জোরপূর্বক ইসরাইলি পতাকায় চুম্বন করানো হচ্ছে ফিলিস্তিনি বন্দীদের, নারীদের দেওয়া হচ্ছে হুমকি
গত ৭ই অক্টোবর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সফল অভিযানের পর, দখলকৃত পশ্চিম তীরের শহরগুলোতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। বিনা অপরাধে গ্রেফতারের পর ইসরাইলি কারাগারে এসব ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা।
এ বিষয়ে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ইসরাইলি কারাগার থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি ফুয়াদ হাসান।
তিনি বলেন, কারাগারে প্রবেশের পর আমাকে ‘জাহান্নামে স্বাগতম’ বলে অভিবাদন জানান একজন ইসরাইলি কারারক্ষী। তাৎক্ষণিক আমি তার এমন উদ্ভট অভিবাদনের অর্থ বুঝতে পারিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা নির্মমভাবে হাতে ও পায়ে, পিঠে ও মাথায় পেটাতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর তাকে জখম অবস্থায় ফেলে রেখে যায় একটি ছোট কক্ষে”
তিনি আরো বলেন, সেই ছোট কক্ষের মধ্যে একটি ইসরাইলি পতাকা টানানো ছিল ও তাতে প্রত্যেক বন্দিকে চুম্বন করার নির্দেশনা দিয়েছিল ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, পতাকায় চুম্বনের দৃশ্য তারা ক্যামেরাতেও ধারণ করছিল।
নির্যাতিত ফাহাদ বলেন, “ইসরাইলি পতাকায় চুম্বনের পালা এলে আমি তা অস্বীকার করি। এতে প্রহরী খুব জোরে আমার বুকে লাথি মেরে পাঁজরের হাড় ভেঙে দেয়। তারপর তিনি জোরপূর্বক পতাকার কাছে আমার মাথা নিয়ে ছবি তোলেন।
৭ অক্টোবরের পর দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে বন্দী করা হয়েছে। যার মধ্যে ৭৫ জনেরও বেশি নারী রয়েছেন। এসব বন্দীদের সাথে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবের মুখপাত্র আমানি আল-সারাহনা এ বিষয়ে বলেন, মহিলা বন্দীদের সাথে দুর্ব্যবহার, মারধর, অনাহার, মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি ক্রমাগত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক হেবা মোরায়েফ জানিয়েছেন, “গত ২০ বছরেও এত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে বন্দী করা হয়নি যা গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে এক মাসে হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দখলকৃত পশ্চিম তীরে ২ হাজার ৬৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি পুলিশ। এছাড়াও ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত হয়েছে ১৯০ জন ফিলিস্তিনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই











