ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর থেকে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনি আটকের সংখ্যা ৪ হাজারে পৌঁছেছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে ইসরাইলের সেনারা। যার মধ্যে ২৫৫ জন শিশু ও ১৫০ জন নারীও অন্তর্ভুক্ত। আর সর্বাধিক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে হেবরন শহরে, যেখানে ১ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মাঝে ৪৫ জন সাংবাদিক রয়েছে বলেও জানানো হয়। তন্মধ্যে ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও বাকি ৩২ জনকে এখনও আটক রাখা হয়েছে।
সর্বমোট ৭ হাজার ৮০০ এর অধিক ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরাইলের কারাগারে চরম অমানবিক বন্দী জীবন পার করছেন। সহ্য করছেন ইসরাইলের অমানুষিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতা। তন্মধ্যে রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন ২৮৭০ জন ফিলিস্তিনি। কোনো ধরণের অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা ছাড়াই তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে।
এছাড়া ইসরাইল গাজ্জায় যুদ্ধ করেছে এমন ২৬০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক রাখার দাবি করেছে বলে জানায় সংগঠনগুলো। আর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৭ অক্টোবরের পর থেকে আটককৃতদের মধ্যে ইসরাইলের হাতে বন্দী অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৬ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। তন্মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে তাকে গাজ্জা থেকে আটক করা হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গাজ্জার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমেও পরিচালিত হচ্ছে ইহুদিবাদীদের নৃশংসতা। অবৈধ রাষ্ট্রটির সন্ত্রাসী সেনাদের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮০ এর অধিক ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। বিশেষত জেনিনে ১১ ফিলিস্তিনির নির্মম মৃত্যু ঘটে।
উল্লেখ্য, গাজ্জায় আমেরিকা ও পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ইসরাইল পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেছেন ১৮ হাজার ৬০৮ ফিলিস্তিনি। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তাদের ভয়াবহ নৃশংসতা ও বর্বরতার শিকার ৫০ হাজার ৫৯৪ ফিলিস্তিনি।
কেননা, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে গাজ্জার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল, মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশে তারা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে রেখেছে। উন্নতমানের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশের ক্ষেত্রেও দিয়ে রাখা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু











