গাজ্জা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ আমেরিকানরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) আমেরিকায় সংবাদমাধ্যমটির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে, শত শত আমেরিকানকে জর্জিয়ায় অবস্থিত সিএনএন কার্যালয়ের দিকে গাজ্জার সমর্থনে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পৌঁছার পর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন যে, সিএনএন! সিএনএন! চিনেছি এখন আমরা তোমায়। যখনি তুমি প্রচার করো সংবাদ, গাজ্জায় ঝড়ে পড়ে তরতাজা প্রাণ। সিএনএন! সিএনএন! তোমরাও গণহত্যার সম-অংশীদার।
উল্লেখ্য, ৯০ এর দশকে আরব উপসাগরীয় যুদ্ধের সার্বক্ষণিক খবর সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে আমেরিকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমটি আর তার নিরপেক্ষতা ধরে রাখেনি। বরং বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইউরোপ আমেরিকার আগ্রাসনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
সম্প্রতি আমেরিকা ও পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিশ্ব মানবতার শত্রু ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল পরিচালিত গাজ্জা গণহত্যায়ও সংবাদমাধ্যমটি ইসরাইলী শিশু জবাইয়ের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে, যার প্রেক্ষিতে আমেরিকায় ১ আমেরিকান মুসলিম শিশুকে ২৬বার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনা সিএনএনের পাশাপাশি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বাইডেনকেও তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে দেয়। কেননা গাজ্জায় ইসরাইলী শিশুদের হামাস জবাই করছে ও গর্ভবতী নারীদের ধর্ষণ এবং ছুরি দিয়ে জখম করছে মর্মে সিএনএনের সাজানো সংবাদ প্রকাশের পরপরই বাইডেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেন। যা আমেরিকানদের মনে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম বিদ্বেষ উস্কে দেয়। আর আমেরিকান মুসলিম শিশু হত্যার ঘটনাটিও এর পরপর ঘটে। কিন্তু ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামীদের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস একটি ভিডিও ও যুক্তি প্রদান পূর্বক বিবৃতি প্রকাশ করলে ইসরাইলী সেনাদের দিয়ে সাজানো সিএনএনের মিথ্যা প্রতিবেদনের গোমর ফাঁস হয়ে যায়। কাতারের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মাধ্যমে যা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে সিএনএনের মতো সকল পশ্চিমা মিডিয়া ও ইউরোপ-আমেরিকার রক্ত খেকো আসল চেহারা সম্পর্কে সকলে জানতে পারে এবং তুমুল বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে শুরু করে।
সূত্র: আল জাজিরা











