ব্যবসায়ীদের সুবিধা ও জনগণের স্বাচ্ছন্দের কথা বিবেচনায় কর ছাড় ও মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আমিরুল মুমিনীন শায়েখ হেবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কর বিষয়ক এক বিশেষ ফরমান জারি করেন।
দেশটির অর্থমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ নাসির আখুন্দ মিডিয়ায় আমিরুল মুমিনীনের ফরমানটি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বাচ্ছন্দ ও সুবিধার কথা বিবেচনায় কর ছাড় ও মওকুফের এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত বর্ষেও শিল্পপতিদের কর ছাড় দিয়ে ৪ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করা হয়েছিলো। সময়ে সময়ে বিভিন্ন ধরণের কর মওকুফ করা হয়েছিলো।
আফগান চেম্বার অফ কমার্স আমিরুল মুমিনীনের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির প্রধান হাজ্বী শারিন আগা সাখী বলেন, নির্ধারিত করের উপর আমিরুল মুমিনীনের ছাড় ও সম্পূর্ণ রূপে মওকুফের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ব্যবসা ও জনগণ বান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের আমিরুল মুমিনীন। আমরা এতে অত্যন্ত আনন্দিত।
অপরদিকে দেশটির দোকানদার ও মার্কেট কর্তৃপক্ষও আনন্দ প্রকাশ করে। জীবনযাত্রা সহজকরণের লক্ষ্যে নেওয়া আমিরুল মুমিনীনের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে। ধন্যবাদ জানায় তালেবান নেতৃত্বাধীন ইমারাতে ইসলামিয়ার সরকারকে।
ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা বলছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশে সহযোগিতার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশের রিজার্ভও জব্দ করে রাখা হয়েছে। তাই আমেরিকা ও গণী সরকারের বিদায়ের পর আমরা সাময়িক সময়ের জন্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু সরকার এসব প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশকে ও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বাচ্ছন্দ ও সুবিধার কথা বিবেচনায় অকল্পনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারা অব্যাহত রেখেছে। ইতিহাসের পাতায় এসব স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তারা আরো বলেন, পূর্বের সরকারের আমলে কর হ্রাস তো দূরের কথা প্রতিনিয়ত তার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। যা সাধারণ জনগণ ও ছোট ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রাকে দিন দিন আরো কঠিন করে তুলছিলো। তখন সেলস ট্যাক্সের পাশাপাশি লাইসেন্স ক্রয় ও নবায়নের, নগর ও পৌরসভার পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার, সব ধরণের পণ্যের, শ্রমিকদের বেতন, এমনকি সব ধরণের ভাড়া থেকেও ট্যাক্স উসুল করা হতো। পূর্বের সরকার জীবনযাপনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিলো।
উপ-প্রধানমন্ত্রী (প্রশাসনিক) মাওলানা আব্দুস সালাম হানাফি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ইমারাত সরকারের নিকট নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত কর ছাড় ও মওকুফের আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের আবেদন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই ফরমান জারি করেন হযরত আমিরুল মুমিনীন।
তিনি আরো বলেন, ১৪০৩ সৌর বর্ষের শুরু থেকেই নির্ধারিত কর ছাড় বহাল রয়েছে। তার সাথে আজ যে সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এর সুফল ভোগ করবে দেশের সর্বস্তরের জনগণ।
ট্রেড ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সামাদ বুতিক বলেন, ফিক্সড ট্যাক্সের উপর ছাড় প্রদান ও বিশেষ ক্ষেত্রে মওকুফের সিদ্ধান্ত নি:সন্দেহে একটি ভালো পদক্ষেপ। এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারমূল্যেও দেখা দিবে।
এডমিনিস্ট্রেশন অফ অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মাওলানা নুরুল হক আনওয়ার আমিরুল মুমিনীনের এমন সিদ্ধান্তকে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আরেকটি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। ইমারাত সরকার এধরণের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকবে বলে জানান।
শিক্ষামন্ত্রী শায়েখ নিদা মুহাম্মদ নাদিম বলেন, ট্যাক্স কমানোর পলিসিটি দ্বীনদারিতার অংশ। জনসাধারণের সেবার লক্ষ্যে ও বোঝা হালকা করার প্রয়াসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, নিকট ভবিষ্যতে আমরা আরো এধরণের সুসংবাদ শুনতে পাবো।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন মদদপুষ্ট পূর্বের আফগান সরকার ব্যবসায়ীদের বিক্রয় লব্ধ প্রতি ১ লাখ আফগানি থেকে ১.৫ শতাংশ কর উসুল করতো। এক্ষেত্রে বাৎসরিক বিক্রির পরমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিলো দেড় লাখ আফগানি। আমেরিকা ও ন্যাটো জোটকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসার পর তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার এর পরিমাণ ০০.৫ ও পরবর্তীতে ০০.৩ শতাংশে নামিয়ে আনে। এক্ষেত্রে বাৎসরিক বিক্রির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়, ২০ লক্ষ আফগানির উপরে। অর্থাৎ কোনো ব্যবসায়ীর বাৎসরিক বিক্রির পরিমাণ যদি ২০ লক্ষ আফগানির বেশি হয় তবে তাকে প্রতি ১ লাখে ০০.৩ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে। তবে সম্প্রতি এর পরিমাণ কমিয়ে ০০.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। আমিরুল মুমিনীনের নতুন ফরমানের ফলে ০০.২ শতাংশ কর থেকে আরো ছাড় পাবে দেশটির ব্যবসায়ীগণ।
সূত্র: আল ইমারাহ











