ভারতে গরু গোশত রাখার মিথ্যা অভিযোগে তল্লাশির নামে পুলিশের তাণ্ডব চালানোর সময় ‘প্যানিক এটাক’ বা আকস্মিক আতঙ্কে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক মুসলিম নারীর মৃত্যু হয়েছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি নিয়ন্ত্রিত উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্যানিক এটাকে মারা যাওয়া মুসলিম নারীটির নাম রাজিয়া। তার বয়স হয়েছিলো ৫৫ বছর। তল্লাশির সময় পুলিশের তাণ্ডব দেখে ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়ে তার প্যানিক এটাক হয়েছিলো। নিকটস্থ ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের ছেলে নাসিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, গত সোমবার হঠাৎ ৪ পুলিশ সদস্য আমাদের ঘরে হামলে পড়ে। ঘরে এসে উশৃঙ্খলার কারণ জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, আমাদের খবর এসেছে যে এই ঘরে গরুর গোশত আছে। তারা ঘরের মহিলা সদস্যদের সাথে খুবই বাজে ব্যবহার করে। তাদের উপর হাত তোলার চেষ্টা করে। আমাদের ঘরের জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতে থাকে ও ভাঙচুর করে। পুলিশের বাজে ব্যবহারে আমার মায়ের প্যানিক এটাক হয়।নিকটস্থ ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবীতে বিজনোরের নাগিনা নগরের এমএলএ সমাজবাদী পার্টির মনোজ কুমার পরশ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে বিজনোর পুলিশ চীফের কার্যালয়ে গমন করেন। তল্লাশির নামে তাণ্ডব ও নারীদের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেওয়ার দাবী জানান।
পুলিশের দুর্ব্যবহারে রাজিয়া নামক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে কিরাতপুর থানার স্টেশন হাউজ অফিসার জয় ভগবান সিংহ বলেন, রাজিয়ার মৃত্যুর সাথে পুলিশী অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি হাঁপানি রোগী ছিলেন। কয়েক বছর থেকে তিনি এর চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন।
অপরদিকে বিজনোর জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক ঝাঁ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর যে ৪ পুলিশ কনস্টেবল বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন এবং অভিযুক্ত কোনোকিছু পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ইতিমধ্যে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ও এই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা ভুল তথ্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: মুসলিম মিরর











