spot_img
spot_img

ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে পালানোর আগে যে কথা বলতে পারেননি হাসিনা

জুলাই ও আগস্টে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা। পরে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তিনি। এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন। পালিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন স্বৈরাচার হাসিনা।

সোমবার (৫ আগস্ট) তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী তার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লেখেন, শেখ হাসিনা পালানোর আগে বলেছিলেন- দীর্ঘ নয়, অল্প সময় কথা বলবেন তিনি। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি এবং সেনাপ্রধানের অনাগ্রহে সে সুযোগ পাননি হাসিনা। তখন তাকে বলা হয়, চারদিকে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। সবাই মারমুখো। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা গণভবনে পৌঁছে যেতে পারে। তার নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাকে সে সুযোগ দেওয়া যাবে না। হাসিনা বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। বক্তৃতার একটি খসড়া তৈরি করেছিলেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাসিনা ভাষণে বলতে চেয়েছিলেন- নিজ ইচ্ছায় নয় তাকে বলপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। কারা এবং কোন বিদেশি শক্তি তার সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছে এবং তার শাসনকালে দেশের কী কী উন্নয়ন হয়েছে সেসবকিছুর বয়ানই ছিল সেখানে।

পরে সকাল থেকে দুপুর, এ সময় নানাভাবে আলাপ আলোচনা চলছিল। নয়াদিল্লি থেকে বারবার ফোন আসছিল। বলা হচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রীর (হাসিনা) নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়।

পরে ঢাকার তরফে দিল্লিকে বলা হয়েছিল তারা যেন বিমান পাঠিয়ে হাসিনাকে নিয়ে যান। কিন্তু সে অনুরোধে সাড়া দেয়নি দিল্লি। এরপর বাংলাদেশের স্ব-উদ্যোগে বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ বিমানে তাকে দিল্লি পাঠানো হয়।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় তার সাথে আরও দু’জন ছিলেন- তার বোন রেহানা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। তার পালানোর পক্রিয়াটা এতটাই দ্রুত ঘটেছে যে, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সাথে নিতে পারেননি তিনি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ