মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির কেন্দ্রীয় কারাগার আডিয়ালা থেকে সরিয়ে নেওয়ার খবরটি গুজব বলে জানিয়েছে কারা-কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় কারা-কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আডিয়ালা কারা-কর্তৃপক্ষ জানায়, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা খান সাহেব আডিয়ালাতেই আছেন। তার শরীর-স্বাস্থ্য সবকিছুও ঠিকঠাক। আডিয়ালা থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এছাড়াও বলা হয়, তিনি তার পূর্বের সেলেই অবস্থান করছেন। তার সেলটিকে নিউটাউন থানাভূক্ত করা হয়েছে। তিনি ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিউটাউন থানার হেফাজতে শারিরীক রিমান্ডে থাকবেন। তাকে বিগত ২৮ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কারা-চিকিৎসকগণ তাকে নিয়মিত চেকআপ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী তার ব্লাড প্রেশার ও সুগার লেভেলও স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি দৈনিক দু’বার ব্যায়াম করে থাকেন। কারা-নীতি মোতাবেক তাকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তার খাবার-দাবারের প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইমরান খানের মুক্তির দাবীতে স্ত্রী বুশরা বিবির নেতৃত্বে সম্প্রতি ইসলামাবাদ অভিমুখে বিশাল লংমার্চ করে তার দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ ও সাধারণ জনগণ। কিন্তু সেনা হস্তক্ষেপে ক্ষমতায় আরোহণ করা পুতুল সরকারের আদেশে ব্যাপক নৃশংসতা চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। লংমার্চে অংশগ্রহণ করা হাজার হাজার পাকিস্তানিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি সরাসরি গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে ভয়ংকরভাবে হতাহত করা হয়। এমন নির্মমতার মুখে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় ইমরান খান প্রতিষ্ঠিত দলটি।
এই ঘটনায় তার স্ত্রী বুশরা বিবি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ও কারাগার থেকে ইমরান খানকে সরিয়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। দলটির লংমার্চকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশটির সব ধরণের পরিবহন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় বিষয়টি আরো ঘোলাটে হয়ে যায়।
কেননা নিরাপত্তা বাহিনীর তাণ্ডব শুরুর পর একদিকে লংমার্চে নেতৃত্ব দেওয়া বুশরা বিবির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। অপরদিকে প্রশাসনের সর্বাত্মক দমননীতি ও ব্ল্যাকআউটের ফলে ইমরান খানের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিলো না।
ইমরান খান এর আগে কারাগার থেকে এক বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অবস্থা বেগতিক হলেও তিনি এই কর্মসূচি ফিরিয়ে নিবেন না। তার স্ত্রীও ইসলামাবাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থানকালে প্রায় একই কথা বলেছিলেন। প্রশাসনের মুহুর্মুহু গুলি, গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস বর্ষণে পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে যাওয়ার পর তাদের কোনো খোঁজ না থাকায় তাই গুমের কিংবা হত্যার আশঙ্কা প্রবল আকার ধারণ করে।
সূত্র: এআরওয়াই নিউজ










