সোমবার, এপ্রিল ৭, ২০২৫

পরিকল্পনাধীন তুর্কি বিমানঘাঁটি সহ সিরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল

পরিকল্পনাধীন তুর্কি বিমানঘাঁটি সহ সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে দামেশক, হামাহ ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ সন্ত্রাসী হামলা পরিচালিত হয়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার খবরে বলা হয়, বুধবার রাতে ১১টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে জায়নবাদী দখলদার ইসরাইল। হামলায় দামেশকের পার্শ্ববর্তী বারজেহর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র ও হামাহ-র বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করে নেয় আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ফিলিস্তিন সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ ও গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনারা।

ইসরাইলী সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের বিমানবাহিনী হামাহ-য় অবস্থিত সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটি, হোমসের টি-৪ সামরিক বিমানবন্দর ও সামরিক সক্ষমতায় ভূমিকা রাখা দামেশকের বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, টি-৪ হলো সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি। সামরিক বিমানবন্দরটি ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে অবস্থিত। একে পুনরায় স্বরূপে ফেরাতে ও সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্কের কাছে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট আহমদ শর’আর সরকার। যা বর্তমানে চুক্তি সাক্ষরের প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। টি-৪ বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে পালমিরার মরুভূমিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনেরও কথা রয়েছে তুরস্কের।

এর আগে মার্চের শেষভাগে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি টি-৪ তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ইসরাইল। এতে বলা হয়, সিরিয়ার আকাশ তুরস্কের হাতে ছেড়ে দিবে না ইসরাইল। বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা পেতে আপোষেও যেতে দেওয়া হবে না। বিমান অভিযানের স্বাধীনতা নিয়ে কোনো ছাড় হবে না।

অবৈধ রাষ্ট্রটির সংসদ নেসেটের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য ও ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টির নেতা ওহাদ তাল এই প্রসঙ্গে বলেন, ইসরাইলকে অবশ্যই সিরিয়ায় তুরস্কের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্থান থামাতে হবে। গ্রীস ও সাইপ্রাসের সাথে শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে হবে। আঙ্কারার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায় করে নিতে হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে তিনি তুরস্ককে ইসরাইলের শত্রু রাষ্ট্র বলে আখ্যায়িত করেন। নেতানিয়াহু সরকারকে অবিলম্বে ইসরাইলে থাকা তুর্কি দূতাবাস বন্ধের আহবান জানান।

তুরস্কের সেনারা গত মঙ্গলবার ১ মার্চ বিমানঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। তবে অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে তুর্কি সেনা বহরে সামরিক যুদ্ধযান ও ট্যাংকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এসময় দেশটির জনগণ তুর্কি সেনাদের উৎফুল্ল ধ্বনিতে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলো।

একই দিনে গ্রীসে ইসরাইলের সামরিক মহড়া শুরুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যেখানে গ্রীস, সাইপ্রাস, আমেরিকা, কাতার ও আরব আমিরাত সহ আরো কিছু দেশ মহড়ায় অংশ নেয়। আমেরিকাও ঘোষণা দেয় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় সামরিক উপস্থিতি কয়েকগুণ বাড়ানোর।

ইসরাইলের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সিরিয়ায় আঙ্কারার উদ্দেশ্য হলো স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। একে অগ্রাধিকার দিয়ে ও দেশটির সরকারের দাবী-দাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে সিরিয়ার সেনাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিও ঘাঁটি স্থাপন পরিকল্পনার অংশ। যেনো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করা যায়। পুরো ভূখণ্ডের উপর সিরিয়ার নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পায় ও কর্তৃত্বের সম্প্রসারণ ঘটে।

এছাড়া তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, তুরস্ক ও সিরিয়ার মাঝে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের মরুভূমিতে ২টি তুর্কি বিমানঘাঁটি স্থাপন ও দেশটির সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে তোলা এই প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ডিসেম্বরে বাশারের পতনের পর থেকে ১৯৭৪ এর চুক্তি লঙ্ঘন করে সিরিয়ায় এখন পর্যন্ত শ’খানেক বিমান হামলা পরিচালনা করেছে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে দখলদারিত্ব আরো সম্প্রসারণ করেছে। আগ থেকেই দখলে রাখা গোলানের বাফার জোনও দখল করে নেয় বর্তমান পৃথিবীর নিকৃষ্ট অবৈধ রাষ্ট্রটি।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_imgspot_img

সর্বশেষ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img