বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

আবারও মিথ্যা জঙ্গি মামলা : তৌহিদী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল বাইতুল মোকাররম

সুপরিচিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামপ্রিয় নাগরিকদের মিথ্যা জঙ্গি মামলায় ফাঁসিয়ে মানহানি ও নিরাপত্তা-ঝুঁকি তৈরির প্রতিবাদে এবং জনপরিসরে ইসলামের অবস্থান সংকুচিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘তাওহিদি ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বাদ জুমা, রাজধানীর বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

লেখক ও আলোচক আহমাদ রফিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখক আসিফ আদনান, খেলাফত আন্দোলন (একাংশ)-এর মহাসচিব মুফতী ফখরুল ইসলাম, এক্টিভিস্ট ও গবেষক ডা. মেহেদি হাসান, লেখক ও আলোচক জাকারিয়া মাসউদ, নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কেএসএম ইনতিসার ইনজেমাম, বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের সেক্রেটারি মুফতী শফিকুল ইসলাম এবং লেখক মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসউদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আহমাদ রফিক বলেন, ফেরাউনের রাজ্যে কিবতিদের জন্য এক ধরনের আইন থাকতো, আর ফেরউন ও তার পরিবারবর্গ এবং তার অনুসারীদের জন্য আরেক রকম আইন থাকতো। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে মুসলমানদেরকে, তাওহিদপন্থীদেরকে সে ফেরাউনি সাম্রাজ্যের মত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই বাংলাদেশে বিগত সময়ে যে দূর্বল ও ভঙ্গুর প্রশাসনিক অবস্থা গিয়েছে। যদি এদেশের জঙ্গিরা ওঁত পেতে থাকতো আক্রমণ করার জন্য, তাহলে তারা কি সে সময় আক্রমণ করতো না? কারতো। কিন্তু তখন কেউ আক্রমণ করে নাই। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, কোনো জঙ্গিরা বাংলাদেশে আক্রমণ করার জন্য ওঁত পেতে নাই, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নাই।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে আসিফ আদনান বলেন, “বাংলাদেশে আবারও জঙ্গিবাদ দমনের নামে একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নাটক শুরু হয়েছে। যার একমাত্র উদ্দেশ্য, ইসলামপন্থীদের দমন এবং জনপরিসর থেকে ইসলামের অবস্থান মুছে ফেলা।”

তিনি আরও বলেন, “দুই দিন আগেও সরকারের উপদেষ্টারা বলেছেন দেশে কোনো জঙ্গি নেই। অথচ হঠাৎ করে গ্রেফতার শুরু হলো। গত অগাস্ট থেকে ছয় মাস সরকার ছিল দুর্বল। দেশে যদি সত্যি কোনো জঙ্গি থাকতো, সেই সময়েই বড় ধরনের হামলা হতো। হয়নি, কারণ ছিল না। আজ শুরু হওয়া এই ‘জঙ্গি দমন নাটক’ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

আসিফ বলেন, “আমরা জানি এই নাটক কেন শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলা, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি ও আইএমএফের প্রেসক্রিপশন, এসব বিষয়ে ইসলামপন্থীরা প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ করে। তাই আমাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যত মামলা হোক, যত গ্রেফতার হোক, ইন শা আল্লাহ আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে থাকবো।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ হলো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা গত বছর ২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, ১৭০০ জনকে গুম করেছে। গোপালগঞ্জে বন্দুক, পেট্রোল বোমা নিয়ে হামলা করেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা জেলে ডিভিশন পায়, নতুন দলে যোগ দেয়। আর টার্গেট করা হয় ইসলামপন্থীদের।”
নিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এখানে নিজের জন্য আসিনি। হাসিনা আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল, র‍্যাব দিয়েছিল, এখন ইন্টারিম দিচ্ছে, ভবিষ্যতে আরেকজন দেবে। এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার বিচারক আল্লাহ্। আমি এসেছি যেন আপনাদের কাউকে কাল তুলে নিয়ে না যেতে পারে। এসেছি ফারাবী, সাইমন, অনিক, রানাদের মতো মজলুম মুসলিমদের পক্ষে কথা বলতে।”

আসিফ বলেন, “শামীম মাহফুয নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অথচ মামলায় তার নাম ছিল না। তাকে আগেও কয়েকবার গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে। এখন আবার তাকে টর্চার করে কোনো বক্তব্য জোর করে পড়ানো হচ্ছে কি না, সেটা দেখা জরুরি।”

তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “এই বাহিনীগুলো অতীতে মিথ্যা গল্প বানিয়ে মানুষকে ক্রসফায়ারে দিয়েছে, নির্যাতন করেছে, রেপ করেছে। আজ তারা যে সত্য বলছে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আমাদের চোখ খোলা রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “যদি কেউ প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে, তাহলে প্রচলিত আইনেই তার বিচার হোক। কিন্তু আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে আইন সবার জন্য সমান নয়। সেক্যুলারদের জন্য এক আইন, মুসলিমদের জন্য আরেক। এক পক্ষের বিচার হয় দ্রুত, অন্য পক্ষের হয়েই না।”

তিনি আরও বলেন, “একজন মুসলমানও যদি অবিচারের শিকার হয়, আমাদের কথা বলতে হবে। একজন অমুসলিমও যদি অবিচারের শিকার হয়, আমরা চুপ থাকতে পারি না। এই কওম ও যমীনের ভবিষ্যৎ আমাদের উপর নির্ভর করে। আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে।”

আসিফ আদনান বলেন, “আজ যে জঙ্গি নাটক শুরু হয়েছে, তার শেষ হবে ভয়ংকরভাবে। আজ যে অস্ত্র ইসলামপন্থীদের দিকে তাক করা হয়েছে, কাল সেই অস্ত্র ভিন্নমতের অন্যদের দিকেও তাক করা হবে। তাই এখনই পুরো সমাজকে সচেতন হতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে।”

লেখক জাকারিয়া মাসউদ বলেন, আমাদের দেশের শত্রুদেরকে পরিস্কার বার্তা দিতে চাই, এই বাংলাদেশ জুলাইউত্তোর বাংলাদেশ, এখন আর জঙ্গি নাটক চলবে না। এই জঙ্গি নাটকের নাম করে আর কোনো তৌহিদবাদী ভাইকে হত্যা করা চলবে না। এই জঙ্গি নাটকের নাম করে র‌্যাবের আর কোনো আলেপ আমাদের বোনকে ধর্ষণ করতে পারবে না।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ