বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

জুলাই সনদের খসড়ায় ‘মাদরাসা শিক্ষার্থীদের’ উল্লেখ নেই: ইসলামী আন্দোলন

জুলাই সনদের খসড়ায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উল্লেখ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

তিনি বলেন, সনদের কোথাও অংশগ্রহণকারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আইনি সুরক্ষা রাখা হয় নাই। ফলে অভ্যুত্থানের নায়কদের নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। অংশ নেওয়া শক্তি ও পক্ষের উল্লেখ নাই। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উল্লেখ নাই। ফ্যাসিবাদের দোসরদের সম্পর্কেও সনদের খসড়া নিশ্চুপ। এর ফলে স্বৈরাচারের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন সহজ হবে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে খসড়া জুলাই সনদের ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, খসড়ায় একবারের জন্যও পতিত ফ্যাসিবাদের মূল হোতা ও অশুভ চক্রের প্রধান শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করা হয় নাই, অথচ পুরো ফ্যাসিবাদ তারই নেতৃত্বে নৃশংসতা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক প্রমাণিত ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। তারপরেও জুলাই সনদে শেখ হাসিনার নাম না থাকা মেনে নেওয়া যায় না। একই সাথে জুলাই সনদে পতিত ফ্যাসিবাদকে গৎবাঁধা শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। ফলে পতিত ফ্যাসিবাদের নির্মমতা,নৃশংসতা ও বিভীষিকাময় দুঃশাসনের চিত্র খসড়া সনদে নাই।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে প্রধান চাওয়া ছিলো, এর আইনী মর্যাদা ও বাধ্যবাধকতা। কিন্তু খসড়া সনদে এই সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নাই। ফলে এই সনদের আদতে কোন তাৎপর্য আছে বলে মনে হয় না।

অঙ্গীকারনামা ৭ এ যথাযোগ্য স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করার কথা বলা হয়েছে। এখানে “যথাযোগ্য” শব্দটি আপেক্ষিক। যে যার মতো করে এর মর্যাদা ও তাৎপর্য নির্ধারণ করবে। অথচ জুলাইয়ের তাৎপর্য আপেক্ষিক না বরং রক্ত রঞ্জিত বাস্তবতা।

ইউনুছ আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ যে দেড় দশক স্বৈরতন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হলো তার প্রধান দায় ভারতের। অথচ জুলাই সনদে ভারত নিয়ে রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে খসড়া সনদ খুবই দুর্বল প্রকৃতির হয়েছে। এবং আইনি বাধ্যবাধকতাসহ অপরিহার্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়েছে। একইসাথে পতিত স্বৈরাচারের অপকর্মের চিত্রায়ণে ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, দফতর সম্পাদক, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ