বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভারতে মুসলিমদের স্থাপনায় আক্রমণ অব্যাহত; ভাঙচুরের শিকার গাজী মিয়াঁ দরগাহ

মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতে মুসলিমদের স্থাপনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার (১৭ আগস্ট) মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রদেশের গাজী মিয়াঁ দরগাহ ভাঙচুরের কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার গোর্গি গ্রামের প্রসিদ্ধ গাজী মিয়াঁ দরগাহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীরা প্রথমে দরগায় প্রবেশ করে এতে নাপাক ছিটায়। যেমনটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতকারীরা অন্যান্য দরগাহ ও মসজিদগুলোতেও করে আসছে। এরপর দরগাহটিতে ভাঙচুর চালায়।

শনিবার সকালে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে, বিপুল সংখ্যক মুসলিম স্থানীয় থানায় জড়ো হোন এবং কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দেন।

মুসলিম ও অন্য সম্প্রদায়ের স্থানীয় বাসিন্দারা এই ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এটিকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।

গ্রামের একজন মুসলিম বলেন, কারো বিশ্বাসে আঘাত করা মানে সমাজকে বিভক্ত করার এবং শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা।

অন্য সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ উল্লেখ করেন, দরগাহটির গভীর ধর্মীয় এবং আত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। এই দরগাহর উপর আক্রমণ আমাদের বিশ্বাস এবং পরিচয়ের উপর আক্রমণ।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্তৃক মুসলিমদের ধর্মীয় স্থানগুলোকে নিশানা বানানোর যে জঘন্য কর্মকাণ্ড বৃহত্তর পরিসরে শুরু হয়েছে, স্থানীয় মুসলিম নেতারা এই ঘটনাকে সেসবের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। যেখানে তারা মুসলিমদের ঈদগাহ, মসজিদ, মাদরাসা ও দরগাহকে এবং এসবের মালিকানাধীন সম্পত্তিকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

তারা দরগাহ ভাঙচুর প্রসঙ্গে অতীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাবরি মসজিদ এবং মথুরা শাহী ঈদগাহ সংঘাতের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে সকলকে সতর্ক করেন। বলেন, জ্ঞানবাপী, সম্ভাল শাহী মসজিদ এবং আজমির দরগাহকে ঘিরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা সৃষ্ট বর্তমান উত্তেজনা মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি পুরনো সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ডিএসপি হেডকোয়ার্টার্স হিমানী পাঠক নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ভাঙচুরের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছেন। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো অভিযুক্তকে রেহাই দেওয়া হবে না। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এসডিএম অনুরাগ তিওয়ারি গ্রামবাসীকে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেন এবং সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরো জানান, দরগাহর ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ইতিমধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সহায়তা করছেন। বিশৃঙ্খলা রোধে দরগাহর আশেপাশে উল্লেখযোগ্যভাবে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় মুসলিমরা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের নেতারা ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় আরো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনকে আহবান জানিয়েছেন। যেনো ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণের কোনো ঘটনা না ঘটে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ