ভারতের গুজরাটে ভবনগরের কুম্ভারওয়াডা স্কুলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত একটি নাটক বোরকা পড়া মুসলিম মেয়েদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুজরাটের ভবনগরের কুম্ভারওয়াডা স্কুলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত একটি নাটক মুসলিমদের জন্য অপমানের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৫ আগস্ট, স্কুলে পরিবেশিত হওয়া এই নাটকে বোরকা পড়া ছোট মেয়েদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ভিডিও (নাটকের) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নাটকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে প্রদর্শিত হয়। সেখানে বোরকা পরিহিত মেয়েরা জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা যায়। সমালোচকরা এটিকে মুসলিমদের অপমান করার এবং দেশপ্রেমের আড়ালে ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর উদ্দেশ্য হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ খান বলেন, “এটি নাটক নয়, এটি বিষ। স্বাধীনতা দিবসে, যখন আমাদের ভ্রাতৃত্ব ও সমতার কথা বলা উচিত, তারা মুসলিমদের অপমান করার পথ বেছে নিয়েছে।”
এক অভিভাবক ফাতিমা বানু বলেন, “মুসলিম মেয়েদের জঙ্গি হিসেবে সাজানো কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি সমাজকে বিভক্ত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”
ভিডিওটি এখন ভাইরাল হয়ে গেছে এবং সারাদেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছে। নাগরিক ও কমিউনিটি নেতারা বলছেন, নাটকটি দেখাচ্ছে যে, জনসমক্ষে ঘৃণা ছড়ানোর পরিবেশ ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
স্কুল প্রশাসন এবং শিক্ষকদের ওপর গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে যারা এমন একটি নাটক অনুমোদন করেছেন। সামাজিক সংগঠনগুলো বলছেন, যেখানে শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার এবং ঐক্যের স্থান, সেখানে এখন ঘৃণার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর ইকবাল আনসারি বলেন, “যখন পাঠ্যপুস্তকই পক্ষপাত দেখাচ্ছে, আর এখন স্কুলে নাটক দেখানো হচ্ছে যেখানে মুসলিমদের জঙ্গি বলা হচ্ছে, পরবর্তী প্রজন্ম কী বিশ্বাস করবে?”
আইনজীবী নাসিম আহমেদ বলেন, “রাস্তা থেকে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত, মুসলিমদের জঙ্গি হিসেবে ব্র্যান্ড করা হচ্ছে। কেন দ্বৈত মানদণ্ড? একজন হিন্দু অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হলে তাকে অপরাধী বলা হয়, মুসলিম হলে তাকে জঙ্গি বলা হয়।”
ছাত্রনেতা আসলাম পাঠান বলেন, “এটি গান্ধীর গুজরাট নয়। সেই রাজ্য যা বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা দিয়েছে, এখন মুসলিম মেয়েদের জঙ্গি হিসেবে প্রদর্শন করছে। এটি স্বাধীনতার ধারণার প্রতি অপমান।”
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তদন্ত চলছে, তবে এখনও কোনো পুলিশ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ দায়ের এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের শাস্তি দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, ভবনগরের এই নাটককে শুধুমাত্র স্থানীয় বিতর্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সমালোচকরা বলছেন এটি সতর্কবার্তা যে, শিক্ষাক্ষেত্রে এবং সমাজে জাতীয়তাবাদের আড়ালে ঘৃণা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।











