মঙ্গলবার | ১৭ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

নুরুল হক নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইন্তিফাদা বাংলাদেশ

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইন্তিফাদা বাংলাদেশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ‘মঞ্চ ৭১’ নামক সংগঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের মঞ্চ তৈরি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলা, এবং বাড়তে থাকা পুলিশি সহিংসতা, এসবই ইঙ্গিত দেয় যে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আবারও জনপরিসরে ফিরে আসছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পুনরায় দমননীতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া একাধিক ফ্রন্টে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “মঞ্চ ৭১ মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক প্রকল্পের একটি তথাকথিত সুশীল ফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের সাম্প্রতিক বৈঠক ছিল আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিকীকরণের প্রথম ধাপ, যেখানে ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলা হয়েছে। বরাবরের মতো তারা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক কাঠামো পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।”

বিবৃতিতে ইন্তিফাদা বাংলাদেশশের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আরেকটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হলো কিছু সাংবাদিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগের গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিচার বানচাল করার উদ্দেশ্যে তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটা ভারতীয় আধিপত্যবাদী প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কোনো একক দলীয় শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠেনি। এটি তৈরি হয়েছে মুজিববাদী ব্যক্তিপূজা, উগ্র জাতীয়তাবাদী বয়ান, বিচারব্যবস্থার দমন, চেতনাজীবী মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বলয়, কর্পোরেট শ্রেণির পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভারতীয় সমর্থনের ভিত্তিতে। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও তারা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে এসে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল তাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বয়ানের হেজেমনি, যা ঘাতক–দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সুশীল–সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট পুনরুৎপাদন করেছে। ‘মঞ্চ ৭১’ সেই ধারারই নতুন উদ্যোগ। তাই এ আয়োজন ও টকশোতে লীগের পুনর্বাসনের পক্ষে দেওয়া বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ।”

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও দমননীতির পথে ফিরছে অভিযোগ করে বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণ স্পষ্ট করে যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সংস্কার না করে আবারও দমননীতির পথে ফিরছে। কেবল তাই নয়, পুরনো ফ্যাসিবাদী কৌশলে তারা নাগরিকদের ওপর নৃশংসতাকে বৈধতা দিতে কখনো ‘এআই দিয়ে বানানো ছবি’, কখনো ‘মব ভায়োলেন্স’ এর মতো হাস্যকর যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে। বাস্তবতা হলো—জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমননীতি, আওয়ামী সুশীল ফ্রন্ট এবং দিল্লীর তৈরি সাংস্কৃতিক বলয় একসাথে সক্রিয় হয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “মুখে পরিবর্তনের কথা বললেও তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করেনি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যূনতম সংস্কারও করেনি। এর ফলেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো আবারও জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আমরা ‘মঞ্চ ৭১’-এর ষড়যন্ত্রমূলক আয়োজন, নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলা এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতির তীব্র নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে প্রতিরোধ না করা হলে তারা আবারও ফিরে আসবে। রাষ্ট্রীয় দমননীতি না বদলালে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হবে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আওয়ামী জাহেলিয়াত ও দিল্লীর আধিপত্য বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এই দুই হুমকির বিরুদ্ধে জুলাই গগণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরোধই একমাত্র পথ।”

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ