spot_img
spot_img

ভারতে পুলিশের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার মুসলিম কিশোর

ভারতের গুজরাটের বোটাদ জেলায় দুইদিন গুম রেখে রেখে আরিয়ান মাখিয়ালা (১৭) নামে এক মুসলিম কিশোরের উপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বোটাদ জেলা স্থানীয় মেলা থেকে আরিয়ানকে আটক করে পুলিশ।

আরিয়ানের পরিবার জানায়, ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে স্থানীয় মেলায় চুরি সন্দেহে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর টানা দুই দিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করতে গেলে জানতে পারে, তাকে পুলিশ আটকে রেখেছে।

পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় বারবার তাকে মারধর করা হয়, গুরুতর আঘাত করা হয় এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যখন আরিয়ানের দাদু প্রতিবাদ করেন, তখন তাকেও মারধর করে ছয় দিন আটক রাখা হয়। এছাড়াও পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাখিয়ালার বোনদের বিয়ের জন্য সঞ্চিত ৫০,০০০ টাকা জব্দ করে।

আরিয়ানের কাকা সোহিলভাই বলেন, মাখিয়ালা ৯ দিন ধরে পুলিশি হেফাজতে ছিল এবং সেই সময় তাকে বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি, যা আইন ভঙ্গের শামিল।

তিনি বলেন, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়েরের জন্য জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড এ আবেদন করা হলে তা বাতিল করে দেওয়া হয়, কর্মকর্তারা দাবি করেন মাখিয়ালা নাবালক নয়।

তবে বোটাদ পুলিশ সমস্ত আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরিয়ান বোটাদ সিভিল হাসপাতালে ভর্তি ছিল সাপ বা কীটের কামড়ে অসুস্থ হয়ে। কিন্তু পরিবার জানায়, তারা তাকে গুরুতর অসুস্থ ও শরীর ফোলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে আহমেদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা প্রতিবেদনে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের প্রমাণসহ কিডনি অকেজো হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গুজরাটভিত্তিক মাইনরিটি কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এমসিসি) বিষয়টি হাতে নিয়েছে। সংগঠনটি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালককে লিখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে। এমসিসি এর মুজাহিদ নাফীস থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

গ্রুপটি পুলিশি অদণ্ডিতা বন্ধ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে তারা ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হেফাজত সহিংসতার বৃহত্তর সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছে।

সূত্র:  ‍মুসলিম মিরর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ