বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সিরিয়াজুড়ে হাজার হাজার মানুষ গণসমাবেশ করেছে। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় ঐক্য ও সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলেপ্পোয় বড় জমায়েত, বিভাজনের বিরুদ্ধে স্লোগান
আলেপ্পো শহরের প্রধান প্রধান চত্বরে বিপুল জনসমাগম ঘটে। সমবেতরা সিরিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দাবিতে স্লোগান দেন। তারা বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতাবাদী এজেন্ডা প্রত্যাখ্যান করে প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং সিরিয়ার সামাজিক সংহতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর দেশের ভৌগোলিক ঐক্য রক্ষা এবং সম্মিলিত সংহতি জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই সমাবেশের আয়োজন।
ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপনের আহ্বান প্রেসিডেন্ট জুলানীর
বর্ষপূর্তির আগের দিন বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং নাগরিকদের এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক বিজয়” হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানান।
যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আহমেদ আল-শার’আ বলেন, “এই দিনটি সেই সংগ্রামের সূচনা, যা পুরো সিরিয়াকে মুক্ত করেছিল।” তিনি জনগণকে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে বর্ষপূর্তি উদযাপনের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “হে সিরিয়ার প্রিয় জনগণ, আজ আমরা সেই মহান প্রতিরোধ যুদ্ধের বার্ষপূর্তি উদযাপন করছি, যে যুদ্ধে আগের শাসনব্যবস্থা তার সব দমনমূলক কাঠামোসহ উৎখাত হয়েছে এবং আমাদের দেশ শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে।”
সব শ্রেণির মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান
জাতিগত বা ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে প্রকাশ্য চত্বরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “স্বাধীনতার মহান সংগ্রামের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রদর্শন করুন এবং শক্তিশালী জাতীয় ঐক্যের পরিচয় দিন।”
তিনি আরও বলেন, “এই মহান উপলক্ষে আমি সিরিয়ার জনগণের সব উপাদানকে চত্বর ও রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি—এই মহাবিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করতে, জাতীয় সংহতি, জাতীয় ঐক্য, সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বদেশের ঐক্য তুলে ধরতে। বীরত্বের সঙ্গে বেঁচে থাকুক মুক্ত সিরিয়া।”
কীভাবে পতন ঘটে আসাদ সরকারের
প্রতিবেদনে বলা হয়, হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বে বিরোধী শক্তিগুলো ইদলিব থেকে আলেপ্পো প্রদেশে একটি বড় ধরনের আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় আলেপ্পো ছিল আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই অভিযানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আলেপ্পো দখলে নেয় বিরোধীরা। এর ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন ঘটে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর









