ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের নীতির কারণে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ প্রত্যাশা করেন না। তিনি বলেন, দুই দেশের সংঘাত কারও জন্যই লাভজনক নয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিভিন্ন খাতে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন একটি “ষড়যন্ত্র” আঁটতে পারে, যা হয় বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করবে, নয়তো ইমারাতে ইসলামিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যেই হবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে বাগরাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা প্রসঙ্গে।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, “এটা পাকিস্তানের যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধ অন্য এক পক্ষ চাপিয়ে দিচ্ছে, আর তারা হামলাকারীরা ভাড়াটে সৈনিক ও টাকার বিনিময়ে খুনি হিসেবে কাজ করছে। অথবা এমনও হতে পারে, তারা ধরে নিয়েছিল, এমনকি প্রচারও করেছিল যে ইমারাতে ইসলামিয়া পাকিস্তানেরই একটি সম্প্রসারণ এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। পাকিস্তান হয়তো ভেবেছিল, এটা সত্য।”
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, “পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি প্রভাবশালী মহল মনে করতে পারে, আফগানিস্তানকে তাদের ইচ্ছা ও নীতির অনুসরণ করতে হবে। আফগানিস্তান যখন নিজের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরল, তখন তারা ষড়যন্ত্রে নেমে পড়ল।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাদের স্বপ্ন ভুল পথে। তারা না বিদেশি শক্তির সেবা করতে সফল হবে, না ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বাধীন ব্যবস্থা দখল করতে পারবে।”
তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান প্রসঙ্গে মাওলানা মুজাহিদ বলেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং তারা দেশটির ভেতরেই নির্দিষ্ট এলাকা ও অপারেশনাল কেন্দ্র পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ভেতর তাদের ঘাঁটি আছে, তাদের অপারেশনের জন্য কমান্ড জোন আছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা আছে, এবং সেখানে তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব আছে। সুতরাং তাদের আফগানিস্তানে আসার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয় না। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিশ বছরের যুদ্ধে কোনো দেশ তাদের কোনো সহায়তা দেয়নি, ইমারাতে ইসলামিয়া কোনো বিদেশি শক্তির কাছে ঋণী নয় এবং যুদ্ধটি বিভিন্ন প্রদেশে সম্পূর্ণভাবে আফগানিস্তানের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রথমত, আমাদের যুদ্ধ কোনো বিদেশি দেশ থেকে শুরু হয়নি। আফগানিস্তানের বিশ বছরের সংগ্রাম নিজের মাটি থেকেই পরিচালিত হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রদেশে লড়েছি, ফারিয়াব, কুন্দুজ, বাদাখশান, হেরাত, কন্দহার, হেলমান্দ, এবং সারা দেশে। এর মানে যুদ্ধ ছিল ব্যাপক, মানুষের মধ্যেই শিকড় গাড়া, এবং কোনো দেশ আমাদের ওপর কোনো অনুগ্রহ করেনি।”
শরণার্থী বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের কারণে অনেক পশতুন আফগানিস্তানে পালিয়ে এসেছে। ইমারাতে ইসলামিয়া তাদের দুরান্ড রেখার কাছের এলাকা থেকে অন্য অঞ্চলে পুনর্বাসন করেছে, এবং তাদের কেউই সশস্ত্র নয়।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ ও তুলো নিউজ











