শনিবার | ২৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে : জামায়াত সেক্রেটারি

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপির নেতারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও লন্ডনের ফতোয়ার প্রভাবে জামায়াতকে শিরক বা কুফর আখ্যা দিচ্ছেন, যা ইসলাম সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তোলেন, একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অতীতের জোট প্রসঙ্গে বিএনপির জবাব দেওয়ার কথা বলেন, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি-সন্ত্রাস বন্ধ হবে বলেই জামায়াতবিরোধিতা বাড়ছে বলে দাবি করেন এবং ভোটারদের কালো টাকা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ধর্ম নিয়ে রাজনীতি জামায়াত করে না, ধর্ম মেনে চলে। যারা ১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে, ধর্মীয় লেবাস পরে তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে।”

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “লন্ডনের ফতোয়ায় আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামায়াতকে শিরক বা কুফর করার কথা বলছে বিএনপি নেতারা। ইসলামকে জানে না বলেই তারা এমন কথা বলছেন।”

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা দাবি করে আমরা না কি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। এটা মিথ্যা প্রচারণা। তারা বলে, আমরা না কি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি।”

একাত্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতের কেউ ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরাধ করেনি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জামায়াতের তখনকার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু জামায়াতের কেউ কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না।” এরপর তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে “যদি এতো ক্ষোভ” থাকে, তাহলে “জামায়াতের সাথে কেন বিএনপি জোট করেছিল, তার জবাব দিয়ে তারপর ৭১ নিয়ে প্রশ্ন করার” পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই কিছু মহল জামায়াতের বিরোধিতা করছে। তিনি একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে কুফুরি আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য।”

ভোট প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না এবং ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। পরে জামায়াতের সেক্রেটারি স্থানীয় একটি মহিলা সমাবেশে যোগ দেন।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ