ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা ৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাজী মোঃ ইবরাহীমের সমর্থনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড়ে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতী রেজাউল করীম।
তিনি বক্তব্যে বলেন, যারা নিজেদের বিশ্বস্ত সাথীদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে পারে, তাদের হাতে ইসলাম ও দেশ নিরাপদ নয়। একই সঙ্গে তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমানে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন আসেনি। স্বাধীনতার বিনিময়ে দেশবাসী প্রকৃত অর্থে একটি লাল সবুজ পতাকা ছাড়া আর তেমন কিছুই পায়নি।”
তিনি বলেন, “বিগত সরকারের অতিমাত্রায় তাঁবেদারির কারণে ভারত বাংলাদেশকে তাদের একটি অঙ্গরাজ্য মনে করে ইচ্ছেমতো আচরণ করে যাচ্ছে, যার ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অতএব এদেশ পরিবর্তন করতে হলে তাকওয়াবান নেতা নির্বাচন করতে হবে।”
চরমোনাই পীর বলেন, “জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামী অনুশাসন ব্যাতীত ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রতীক হাতপাখায় ভোট দিন।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখে একদল জনতাকে ধোঁকা দেয়ার নীল নকশা করেছে। যারা নিজেদের সাথীদের সাথে ধোঁকাবাজি করতে পারে তাদের হাতে ইসলাম ও দেশ নিরাপদ নয়। ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের সাথে অপোষ করে ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার সহজ রাস্তা বেছে নেয়নি।”
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ইসলামী আন্দোলন রাজপথে গুলির মুখে দেশ রক্ষায় সর্বাগ্রে নেমে এসেছিল। ইসলামী আন্দোলন রাজনীতি করে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে। ইসলামের পক্ষে একবাক্স এখন হাতপাখার বাক্স। হাতপাখার বিজয়ের লক্ষ্যে বিরামহীন কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
এদিকে, হাতপাখার প্রার্থী হাজী মোঃ ইবরাহীম তার বক্তব্যে বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান ইবরাহীম, আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৭ নং ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। কাউন্সিলর হিসেবে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করেছি। এবার আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও পরামর্শ নিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ, আধুনিক ও মানবিক ঢাকা ৫ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।”











