শনিবার | ৩১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ইমরান খানের গোপন চিকিৎসার মেডিকেল রিপোর্ট দিতে সম্মত শাহবাজ সরকার

অবশেষে ইমরান খানের পরিবারকে গোপনে করা চিকিৎসার মেডিকেল রিপোর্ট দিতে সম্মত হয়েছে পুতুল সরকার খ্যাত পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সরকার।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডন নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদ সুপ্রিম কোর্ট ভবনের বাইরে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর কারারুদ্ধ সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গোপন চিকিৎসার মেডিকেল রিপোর্টের একটি কপি তার পরিবারকে সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে সরকার।

এর আগে পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ৫দিন পূর্বে গোপনে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর ও চিকিৎসা করার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই আদিয়ালা কারাগারে অবস্থান নিয়েছিলো পিটিআই নেতাকর্মীরা।

ইমরান খান প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল পিটিআইয়ের বর্তমান মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এসসি প্রাঙ্গণের বাইরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা সারাদিন এসসি ভবনের বাইরে ছিলাম। সাথে কেপি (খাইবার-পাখতুনখোয়া) এর মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি, সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস ও পিটিআই আইন প্রণেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেও আদিয়ালা কারাগারের বাইরে একই রকম একটি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয় যা শুক্রবার ভোর ৩টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

এছাড়াও বলেন, খান সাহেবের স্বাস্থ্যের চেয়ে আমাদের কাছে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে প্রতিবেদন উঠে এসেছে তা অসন্তোষজনক। পরিবারের অজান্তেই খান সাহেবকে গোপনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। বিষয়টি চেপে যেতে মিথ্যাও বলা হয়। ৫দিন ধরে তারা বলে আসছিলো যে, এমন কিছুই ঘটেনি।

পিটিআই মহাসচিব আরো বলেন যে, তিনি সারাদিন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে কথা বলেছেন। নিরলস প্রচেষ্টার পরেও ফলাফল ছিলো অসন্তোষজনক।

তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছে যে, জেলে রোগ নির্ণয় এবং খান সাহেবের সাথে পিআইএমএস (পাকিস্তান ইনিস্টিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স) হাসপাতালে কী ঘটেছিলো এর তথ্য সম্বলিত মেডিকেল রিপোর্ট একটি সিল করা খামে ইমরান খানকে দেওয়া হবে। এমনকি আজই সেই রিপোর্টের একটি কপি তার পরিবারকে, অর্থাৎ তার বোনদের দেওয়া হবে। ডাক্তাররা খান সাহেবের কি কি রোগ নির্ণয় করেছেন এবং কি ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন এতে সে বিষয়েরও উল্লেখ থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এই রিপোর্ট আমাদের সামনে এলে পরিবার সিদ্ধান্ত নিবে, যে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে তা সন্তোষজনক কিনা। অন্য কোনো ধরণের চিকিৎসার প্রয়োজনের বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, খান সাহেবকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়েছে। গোপন চিকিৎসার বিষয়টি কারাগারে তার স্বাস্থ্য ও জীবনের উপর হুমকির উদ্বেগকে বাস্তব বলে প্রমাণ করেছে। আমরা অবিলম্বে খান সাহেবের মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।

পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের অধিকার আদায়ের জন্য তার দল প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য দলের রাজনৈতিক কমিটি আজ বৈঠক করবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক দলটি সিনেট এবং জাতীয় পরিষদের বিরোধী নেতা যথাক্রমে আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এবং মেহমুদ খান আচাকজাইয়ের সাথেও কথা বলবে। তাদের পরামর্শক্রমে পিটিআই-এর রাজনৈতিক দল ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার নয়। তবে আগে মেডিকেল রিপোর্ট গ্রহণ করা জরুরি।

অপরদিকে সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধানের অধীনে প্রতিটি ব্যক্তির মৌলিক অধিকার রয়েছে। “মৌলিক অধিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করা নিপীড়ন।

ইমরান খানের অমানবিক কারাজীবন ও হাসপাতালে গোপন চিকিৎসার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা (সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট ও সরকার) যা করছে তা সব দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ, অসাংবিধানিক, অমানবিক এবং নিপীড়নমূলক।

এছাড়া, কেপির মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি বলেছেন, আদিয়ালা জেল এবং সুপ্রিম কোর্টের বাইরে দলের অবস্থান কর্মসূচির লক্ষ্য ছিলো খান সাহেব ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মধ্যে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা। আগে বলা হয়েছিল যে তার [ইমরানের] সাথে রাজনৈতিক বৈঠক নিষিদ্ধ। তারা (ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা) কোনো রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন না।

পাক তথ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি অনুসারে, কারারুদ্ধ সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চোখের রেটিনায় একটি সমস্যার কারণে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গত ২৪ জানুয়ারি পিআইএমএস (পাকিস্তান ইনিস্টিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ২০ মিনিট চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিলো।

তবে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় যে, এই সময়কাল ২০ মিনিটের ছিলো না। বরং তার ব্যপ্তি ছিলো ২ ঘন্টা থেকেও বেশি সময়ের।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ