বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছুদিন আগেও আমরা চিন্তা করতে পারতাম না, একটা ইলেকশন বা রাজনৈতিক সভায় এভাবে রাতে করা যাবে। তখন একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। সেই রাজত্ব থেকে আমরা আগস্টের ৫ তারিখে বেরিয়ে এসেছি। ছাত্ররা-জনতার আন্দোলনের ফলে একটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি। এজন্যই এ নির্বাচনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীরাও ত্যাগ স্বীকার করেছে। অসংখ্য মামলা হয়েছে। ২০ হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে, ১৭০০ মানুষ গুম হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে নিয়েছে। তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করেছে। আমি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১ বার জেলে গেছি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক খুলি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক নিহত হয়েছে। এতো ত্যাগের শিকারের পরে একটা আমরা নির্বাচন পেয়েছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দিয়ে আমরা একটা নতুন পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা হল এই সরকারদেশের মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে মানুষ নির্ভয়ে তার কাজ করতে পারবে। সেজন্য এই নির্বাচনটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যার মধ্যে উগ্রতা নেই। প্রতিশোধ নেই, প্রতিহিংসা নেই। ২৪ সালের ৫ আগস্টের রাতেই আমাদের ম্যাডাম (বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া) তিনি হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তখন একটু ভয়ভীতি ছিল, চারদিকে মনে হচ্ছিল আজ সর্বনাশ হয়ে যাবে। শহরে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। এই বাড়ি লুট হচ্ছে, ওই বাড়ি দখল হচ্ছে। তখন তিনি ওই হাসপাতালে বেড থেকে বলেছিলেন যে আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, অনেক রক্তপাতের পরে ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়। ভালোবাসা এবং মাতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সেই সময় এখন আমাদের এসেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে আসে না। আসতে পারছে না। সরকার তাদের দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বিএনপি হচ্ছে এখন প্রধান দল। আরেকটি দল আসছে। যারা আমাদের সঙ্গে ছিল। এখন আপনারা কোনটাকে বেছে নেবেন ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা? ধানের শীতের অতীত আছে। ধানের শীষ প্রতিষ্ঠা করেছে স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশকে তিনি একটা তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উপরে নিয়ে এসেছে। এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা এনেছে। আমাদের দলেই প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহিম নিয়ে এসেছিল।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল আজ আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে দলটি আজকে মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে। আমার খুব কষ্ট হয়। এই বয়সে আমাকে এ কথাগুলোর উত্তর দিতে হয়। আমি দিতে চাই না। আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই আপনার এই শহরের মানুষ। আপনারা জানেন কারা আপনাদের পাশে আছে, কারা আপনাদের পাশে নেই। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব। এই ভোটে আপনার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে উন্নয়ন থেকে অনেক পিছিয়ে পড়বেন, বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে। যারা দাঁড়িপাল্লার কথা বলে, ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের কিন্তু উন্নয়নের কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাদের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিএনপি পাঁচবার ক্ষমতায় ছিল, আমাদের নেতৃত্বে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছে এজন্য আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমাদের ছেলে-মেয়েরা কি কষ্টই না দিয়েছে। তারা চাকরিতে গেছে। রিটার্ন এ পাস করেছে। ভাইভাতে পাস করেছে। তারপতে ইনকোয়ারি হয়। তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে বা তার বাড়ি বিএনপি মহাসচিরের এলাকায় তখন আর চাকরি হয়নি। এটাই হয়েছে বিগত সময়গুলোতে। কিন্তু আমরা সেসব করব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। আগামী দিনগুলোতে আমরা যদি ভালো সময় চাই। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদেরকে কাজ করার সুযোগ দিন। আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
বিএনপি মাহাসচিব বলেন, একটি দল আছে যারা বিভিন্নভাবে ধমকাচ্ছে। ধমক দিচ্ছে ধানের শীর্ষে ভোট দিলে দেখে নেবে। তোমরা দেখবে কিভাবে? তোমাদের শক্তিটা কোথায়? আমি সনাতনী ভাই-বোনদেরকে পরিষ্কার করে বলতে চাই। নির্ভয়ে আপনারা ভোট দিতে যাবেন। যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আরেকটা কথা বলে দিতে চাই এখানে কারো উপর অন্যায়ভাবে একটা ফুলের টোকা পড়লে আমরা তাকে ছেড়ে দেব না।











