বৃহস্পতিবার | ৫ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভারতে নামায পড়ানোর অভিযোগে এক দিনেই বরখাস্ত হলেন প্রধান শিক্ষক

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরার নৌঝিল ব্লকের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে বরখাস্তের ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, স্কুল চলাকালীন তিনি শিক্ষার্থীদের নামায পড়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন এবং এই অভিযোগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৩০ জানুয়ারি স্থানীয় বিজেপি মন্ডল সভাপতি দুর্গেশ প্রধান একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর ঠিক পরের দিন ৩১ জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) রতন কীর্তি বরখাস্তের আদেশ জারি করেন। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ ছিল যে স্কুল চত্বরে শিশুদের দিয়ে নামায পড়ানো হচ্ছে, যা প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপকে উস্কে দেয়। বিইও রতন কীর্তি সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “৩০ জানুয়ারি স্কুলে নামায পড়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

ঘটনার তদন্তে চাতা এবং মান্ট এলাকার দুইজন ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রতন কীর্তি আরও জানান, “যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তবে এই তড়িঘড়ি বরখাস্তের ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই বা নিজের পক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই প্রধান শিক্ষককে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “মাত্র এক দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, এখানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বাইরের চাপই বেশি কাজ করেছে।”

জান মোহাম্মদের সমর্থকদের দাবি, বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলছেন, কোনো অভিভাবক এ নিয়ে আপত্তি করেননি; অভিযোগটি এসেছে শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে।

গ্রামের একজন সমাজকর্মী প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “সরস্বতী বন্দনা বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অন্যান্য ধর্মীয় আচার স্কুলে কোনো আপত্তি ছাড়াই নিয়মিত পালিত হয়, অথচ একজন মুসলিম শিক্ষক হওয়ার কারণেই তাঁকে অবিলম্বে শাস্তির মুখে পড়তে হলো।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দুর্গেশ প্রধান তাঁর কাজের সপক্ষে বলেন যে সরকারি স্কুলকে ধর্মীয় নির্দেশনামুক্ত রাখতে হবে।

তিনি দাবি করেন, “আমি কেবল তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম।”

তদন্ত চলাকালীন এই ঘটনাটি মথুরা জেলায় ন্যায়বিচার, আইনের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ এবং সংখ্যালঘু শিক্ষকদের প্রতি আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জান মোহাম্মদ বর্তমানে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সূত্র : মুসলিম মিরর

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ