ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে পুন্ডরি কালা গ্রামের প্রধান সন্দীপ রাঠি এক কাশ্মীরি তরুণীকে টানা দশ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে।
ভুক্তভোগী সাদিয়ার (ছদ্মনাম) দাবি, চার মাস আগে এক পুলিশি অভিযানের সময় গ্রাম প্রধানের বাড়িতে তাকে রাখা হলে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এদিকে, ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো এফআইআর নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।
গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদিয়া জানান, বিজনোরের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের সময় ওই যুবক নাবালক হওয়ায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। সেই সময় আশ্রয়ের নামে সাদিয়াকে গ্রাম প্রধান সন্দীপ রাঠির বাড়িতে রাখা হয়।
তিনি বলেন, “সেখানে আমাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। আমি কোনোমতে পালিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও ভাইবোনদের কাছে সাহায্য চাইলেও এফআইআর করতে পারিনি। নিরুপায় হয়ে কাশ্মীর ফিরে যাই, কিন্তু বর্তমানে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে সমর্থন দিচ্ছে না।”
ইলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী সোনু মালিক জানান, সাদিয়া ও মুহাম্মাদ কাইফ কাশ্মীর থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। কাইফের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদ রাখার জন্য গ্রাম প্রধানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। সাদিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, রাঠি কেবল তাকে ধর্ষণই করেননি, বরং তাকে দুবাইতে পাচার করারও পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে রাঠি নিজেই তাকে কাশ্মীর পুলিশের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে সাদিয়া পুনরায় ফিরে এসে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
আইনজীবী সোনু মালিক আরও অভিযোগ করেন যে, মামলাটি ধামাচাপা দিতে তাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সাদিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই লড়ায় এখন আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে আমি সাদিয়ার পুনরায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত মূল হোতাকে বাঁচাতে এটি আমাকে ফাঁসানোর একটি অপকৌশল।”
এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সন্দীপ রাঠির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা মামলা গ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাদিয়ার পরিবার ও তার আইনি প্রতিনিধিরা একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে অনড় রয়েছেন।











