জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, গাজ্জা ও ফিলিস্তিনে চলমান বর্বরতার সম্পূর্ণ দায় আমেরিকার। তিনি বলেন, আমেরিকার সরাসরি সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতাই এই জুলুমকে এগিয়ে নিচ্ছে, যা গণহত্যার শামিল। একই বক্তব্যে তিনি পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তির জন্য নোবেল দেওয়ার মন্তব্যকে তোষামোদ ও দাসত্বের চরম সীমা বলে আখ্যা দেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের শাসকদের আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা এবং আমেরিকার প্রস্তাবিত “পিস বোর্ড” ধারণারও সমালোচনা করেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুব কনভেনশনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, গাজ্জায় যে বর্বরতা চলছে, তার সম্পূর্ণ দায় আমেরিকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই পুরো জুলুমের পেছনে আমেরিকার বোমারু বিমান, তাদের বোমা, তাদের বারুদ এবং তাদের ডলার কাজ করছে।” আমেরিকার এই সহযোগিতাকে তিনি সরাসরি গণহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা সরাসরি মুসলমানদের হত্যায় মদদ দেওয়ার পরও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কে “শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার” দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তোষামোদ বা চাটুকারিতার একটা সীমা থাকে, দাসত্বেরও একটা সীমা থাকে।”
তিনি মুসলিম বিশ্বের শাসকদের আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতাকে বোকামি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা ফিলিস্তিনিদের হত্যাকারী, তাদের হাত থেকেই রক্ত ঝরছে, অথচ আমরা তাদের কাছেই ফিলিস্তিনের সমস্যার সমাধান বা ঔষধ চাইছি। তিনি আমেরিকার তৈরি করা “পিস বোর্ড” বা শান্তি ফর্মুলার সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোও এর অংশ হতে চায় না, অথচ মুসলিম দেশগুলো এটি লুফে নিচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমেরিকার প্রস্তাবিত এই শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহু ও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এ নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে দাঁড়ালে মুসলিম বিশ্ব ওয়াকআউট করেছিল, অথচ আজ আমেরিকার চাপে বা খুশিতে শাসকরা সেই নেতানিয়াহুর সাথে একই “পিস বোর্ডে” বসতে রাজি হয়েছেন। একে তিনি মুসলিম শাসকদের জন্য চরম লজ্জাজনক এবং আমেরিকার প্রতি দাসসুলভ আচরণ বলে মন্তব্য করেন।











