সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

নিরাপত্তা শুধু যুদ্ধ থামা নয়, ক্ষুধা মেটানোও নিরাপত্তা : আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ বলেছেন, সামরিক বিজয়ের পর ইমারাতে ইসলামিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা। তিনি নিরাপত্তার ব্যাখ্যায় বলেন, “নিরাপত্তা মানে কেবল যুদ্ধের ময়দানে বোমা হামলা বন্ধ হওয়া বা সীমান্তে প্রহরা নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের পেটের ক্ষুধা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করাও নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা শুধু যুদ্ধ থামা নয়, নাগরিকের ক্ষুধা মেটানো ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও নিরাপত্তার অংশ। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের মানুষ অর্থনৈতিক কষ্টে আছে। তাই এখন অস্ত্রের যুদ্ধের পাশাপাশি অর্থনীতির ময়দানে লড়াই শুরু করার সময় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাওলানা ইয়াকুব আফগানিস্তানের বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আল্লাহ তায়ালা আফগানিস্তানের মাটির নিচে অফুরন্ত খনিজ সম্পদ এবং প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য দিয়েছেন। এগুলো উত্তোলনে এবং বাণিজ্যে বিনিয়োগ করতে হবে।”

ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “অতীতে আপনারা চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয়ে ছিলেন, কিন্তু এখন সেই ভয়ের রাজত্ব শেষ। ইমারাতে ইসলামিয়া আপনাদের জান মাল এবং ব্যবসার পূর্ণ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবসা ও খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করেছে। “আপনারা নির্দ্বিধায় দেশে ফিরে আসুন এবং কলকারখানা গড়ে তুলুন।”

বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর না করার কথা জানিয়ে মাওলানা ইয়াকুব বলেন, “কিছু বিদেশি শক্তি ও দেশ চায় আফগানিস্তান সারাজীবন তাদের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকুক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ুক। তারা আমাদের স্বাবলম্বী দেখতে চায় না। কিন্তু আমরা পরনির্ভরশীলতার এই শিকল ভাঙতে চাই।”

মাওলানা ইয়াকুব বলেন, “আমাদের যুবশক্তি এবং নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াব। আমরা ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নয়, বরং সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই।”

আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ব্যবসায়ী ভাইদের প্রতি আমার বিশেষ বার্তা, আপনারা আপনাদের জনগণকে ভুলে যাবেন না। এই দেশে বহু এতিম, বিধবা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ আছে যারা দীর্ঘ যুদ্ধের শিকার হয়ে আজ নিঃস্ব। সামনের রমজানে আপনাদের যাকাত, সদকা এবং দানের অর্থ তাদের জন্য বরাদ্দ করুন।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যখন ইফতার করবেন বা সাহরি খাবেন, তখন মনে রাখবেন আপনার প্রতিবেশী বা দেশের কোনো এতিম শিশু হয়তো না খেয়ে আছে। তাদের মুখে হাসি ফোটানো সরকারের পাশাপাশি আপনাদেরও ঈমানি দায়িত্ব।”

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ