সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বানাতে যাচ্ছে ইসরাইল

দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বানাতে যাচ্ছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বানাতে যাচ্ছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

রবিবার অবৈধ রাষ্ট্রটির সরকার এই প্রস্তাবনার অনুমোদন দেয়।

ইসরাইলী সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন জানায়, উগ্র ইহুদিবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালাল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন, যেখানে তারা এরিয়া-সি এর বিশাল ভূমিকে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় মালিকানা হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন জানান। যা পুরো পশ্চিম তীরের ৬১ শতাংশ!

ইসরাইলী দৈনিক হায়োম জানায়, ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত অসলো-২ চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরের এরিয়া A সম্পূর্ণ ফিলিস্তিননি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে, এরিয়া B ফিলিস্তিনি নাগরিক ও ইসরাইলী নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অপরদিকে এরিয়া C যা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ জায়গা নিয়ে গঠিত, তাতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা দখল কায়েম করে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্রটি।

পত্রিকাটির মতে, পশ্চিম তীরের এরিয়া-C কে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের মূল তাৎপর্য হলো, মালিকানা প্রমাণিত না হওয়ার জন্য বৃহৎ এলাকাটিকে রাষ্ট্রীয় জমিতে রূপান্তর করা।”

এই অর্থে ইসরাইল ভূমি রেজিস্ট্রিতে আইন প্রয়োগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাব অন্য পক্ষের মালিকানাধীন নয় এমন প্লট নিবন্ধনের মাধ্যমে জমির উপর দখল উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা সম্ভব হচ্ছিলো না। যদিও অসলো-২ চুক্তি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভূমি নিবন্ধনকে এরিয়া A এবং B-তে সীমাবদ্ধ করে এবং এরিয়া C-তে ভূমি নিবন্ধনকে নিষিদ্ধ করে।

ইসরাইল সরকারের এই অনুমোদন কার্যকর হলে, অঞ্চলগুলোতে সরকারি কার্যকলাপের সমন্বয়কারী বিভাগ (সিওজিএটি) এরিয়া-C তে জমির মালিকানা ও নিবন্ধনের জন্য দায়ী থাকবে।

অবৈধ রাষ্ট্রটির এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, বিক্রয় পারমিট প্রদান, ফি সংগ্রহ এবং নিবন্ধন পদ্ধতি তত্ত্বাবধান করা, একই সাথে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ঐসব এলাকায় এই ধরনের কাজ সম্পাদন থেকে বিরত রাখা।

এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত একাধিক পদক্ষেপের অংশ, যা সম্প্রতি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। যার লক্ষ্য হলো, অবৈধ বসতি নির্মাণ সম্প্রসারণ এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা।

ইসরাইলী গণমাধ্যম জানায়, এরিয়া-C কে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রূপান্তর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ইসরাইল যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তা হলো, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলী বসতি স্থাপনকারীদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল করা, ফিলিস্তিনি জমির মালিকানার রেকর্ড সীলমোহর মুক্ত করা এবং হেবরনের নিকটবর্তী এক বসতি স্থাপন ব্লকে নির্মাণ পারমিটের কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি নগর কর্তৃপক্ষ থেকে ইসরাইলের বেসামরিক প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা।

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় গণহত্যা অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম সহ পশ্চিম তীরে অভিযান জোরদার করে। হত্যাযজ্ঞ, গ্রেফতার, বাস্তুচ্যুতি এবং বসতি সম্প্রসারণ বৃদ্ধির এই তৎপরতাকে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইল কর্তৃক ভূখণ্ডটির আনুষ্ঠানিক দখলদারিত্বের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

এধরণের অপতৎপরতা ও অপরাধ বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক যুগান্তকারী রায় দেয়। যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমের সমস্ত বসতি খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ