সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

প্রাচীন নিদর্শন প্রদর্শনীস্থল থেকে ফিলিস্তিন শব্দ মুছে ফেলেছে ব্রিটিশ জাদুঘর

প্রাচীন নিদর্শন প্রদর্শনীস্থল থেকে ফিলিস্তিন শব্দ মুছে ফেলেছে ব্রিটিশ মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ জাদুঘর।

দ্যা টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলপন্থী ব্রিটিশ আইনজীবীদের সংগঠন ‘ইউকে লয়ার্স ফর ইসরাইলের’ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্য সংশ্লিষ্ট প্রাচীন নিদর্শন প্রদর্শনীস্থল থেকে ফিলিস্তিন শব্দ মুছে ফেলেছে ব্রিটিশ জাদুঘর।

জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাস কালিনানকে লেখা এক চিঠিতে সংগঠনটি দাবী করে, “হাজার হাজার বছরের ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতার ক্ষেত্রে সমগ্র অঞ্চলের জন্য ‘ফিলিস্তিন’ শব্দের একক একটি নাম প্রয়োগ করা হলে ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলো মুছে যায়। তা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে বলে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়।”

“এছাড়া শুধু ফিলিস্তিন নাম ব্যবহারের দ্বারা খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে উত্থিত ইসরাইল ও জুডিয়া রাজ্যগুলোকেও মুছে ফেলা হয়। ইহুদি ও ইসরাইলীদের উৎপত্তিকে ফিলিস্তিন থেকে উদ্ভূত বলে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।”

“উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে জাদুঘর যে পরিভাষাটি বেছে নিয়েছে ও ব্যবহার করছে তা ফিলিস্তিন নামক একটি প্রাচীন এবং অবিচ্ছিন্ন অঞ্চলের অস্তিত্বকে বোঝায়। অথচ, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রাচীন নাম রয়েছে। প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে বিশিষ্ট নামগুলোর মধ্যে একটি হল কান’আন। প্রায় ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে কান’আনীয়দের উল্লেখ রয়েছে।”

“এই অঞ্চলটি প্রায়শই ছোট শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ফিলিস্তিনীরাও ছিলো। ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের একটি মিশরীয় শিলালিপিতে ইসরাইল নামক একটি রাজ্যের প্রাচীনতম উল্লেখ রয়েছে। কয়েক শতাব্দী পরে, একটি অ্যাসিরিয়ান লেখায় প্রথমবারের মতো যিহুদা শব্দটিরও উল্লেখ পাওয়া যায়।”

ইসরাইলপন্থী ব্রিটিশ আইনজীবীদের এমন দাবীর প্রেক্ষিতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে মেনে নেয় যে, তাদের গবেষণা ও শব্দ নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্য সংশ্লিষ্ট প্রাচীন নিদর্শনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাই তা মুছে ফেলা হবে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা প্রায় ১৭০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়কালের মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু নিদর্শন প্রদর্শনীতে ফিলিস্তিন শব্দটি ব্যবহার করে আসছিলো, যার একটি নির্দিষ্ট এবং রাজনৈতিক আধুনিক অর্থ রয়েছে।

প্রদর্শনীতে নীল নদের বদ্বীপের হাইকসোস জনগণকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বলে বর্ণনা করা হয়েছিলো। নতুন নতুন রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি প্রাচীন মানচিত্রে রাজ্যগুলোকে চিহ্নিত করার জন্যও একই ভৌগোলিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিলো। মিশরীয় বাহিনীর সাফল্যকে ফিলিস্তিনি আধিপত্য হিসেবে এবং ফিনিশীয় সভ্যতাকে ফিলিস্তিনে অবস্থিত বলে বর্ণনা করা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, ইসরাইল নামক ইহুদি রাষ্ট্রের ধারণার মতো শব্দটির প্রাচীনত্বের বিষয়টিও ইহুদিবাদ বা জায়োনিজমের অংশ। ‘আধুনিক ও প্রাচীন ফিলিস্তিন ভূখণ্ড মূলত ইহুদিদের’ এই তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যই ইহুদিবাদীরা দাবী করে থাকে যে, এই ভূখণ্ডে ফিলিস্তিন বলতে অতীতে কিছুই ছিলো না। প্রাচীনকাল থেকে যেসব সভ্যতা চলে আসছে, তা ছিলো ইহুদিদের। তাই এতে ফিলিস্তিন নামক কোনো রাষ্ট্র থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনিদেরও কোনো অধিকার থাকতে পারে না। এর একমাত্র অধিকার ইহুদিদের ও ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের।

এই ইহুদিবাদী তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাই তারা ঐতিহাসিক বিষয়গুলোতেও হস্তক্ষেপ করে থাকে। যেমনটি বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ জাদুঘরের প্রাচীন নিদর্শন প্রদর্শনীস্থল থেকে ফিলিস্তিন শব্দ মুছে দেওয়ার জন্য করেছে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ