রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি আজ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আরেকটি গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
সরকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে আরেকটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আজ তারেক রহমানকে সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগদান করেছেন। এ প্রজ্ঞাপনটি আজ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
এদিকে, আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন।
এদিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শপথ শেষে করমর্দনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানান। উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। শপথগ্রহণের পর শপথপত্রে স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত আসন গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এরপর রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।
ত্রয়োদশ সংসদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দিপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ ও শপথপত্রে স্বাক্ষর শেষ হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মোহাম্মদ আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মোহাম্মদ আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। পর দিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা ২টি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।











