spot_img

ইরাকে আমেরিকার বিমান বিধ্বস্ত: ৪ সেনা নিহত, প্রতিরোধ হামলার প্রশ্নে ধোঁয়াশা

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকার বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনা নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন এ ঘটনার কথা নিশ্চিত করলেও বিমানটি কেবল দুর্ঘটনায় পড়েছে, নাকি প্রতিরোধগোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ, আমেরিকা শত্রুপক্ষের ভূমিকা অস্বীকার করলেও ইরানের পক্ষ থেকে মিত্র গোষ্ঠীর হামলার দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) আমেরিকার সেন্টকম এ তথ্য নিশ্চিত করে। তারা জানায়, বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় বিধ্বস্ত কেসি-১৩৫ বিমানের উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সেন্টকম বলেছে, এ ঘটনায় মোট দুটি বিমান জড়িত ছিল। এর মধ্যে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়, আর অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। শুরুতে আমেরিকার পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি একটি বন্ধুদেশের আকাশসীমার ওপর ঘটেছে এবং এতে শত্রুপক্ষ বা নিজস্ব বাহিনীর গুলির কোনো ভূমিকা নেই।

তবে ঘটনাটি ঘিরে ভিন্ন বর্ণনাও সামনে এসেছে। ইরাকের ওই অঞ্চলে ইরানপন্থী প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দাবি করেছে, তাদের মিত্র একটি গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ফলে ওয়াশিংটনের প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বোয়িং নির্মিত কেসি-১৩৫ মডেলের রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার। আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় অন্য সামরিক বিমানকে জ্বালানি সরবরাহে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। আমেরিকার দূরপাল্লার সামরিক অভিযান, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের রিফুয়েলিং বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেন্টকম জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটিও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আমেরিকান সামরিক অভিযানের অংশ ছিল।

সেন্টকম আরও বলেছে, নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আগে অবহিত করার সুযোগ দিতে তাদের পরিচয় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না।

সাধারণত একটি কেসি-১৩৫ বিমানে অন্তত একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর থাকেন। বুম অপারেটর আকাশে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন অঞ্চলজুড়ে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি, ইরানবিরোধী অভিযান এবং প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। তাই বিমান বিধ্বস্তের এ ঘটনাকে ঘিরে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের অংশ, সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ