মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রথাগত নিয়ম পরিবর্তন করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে, এ বছর খোলা ময়দানে বা কোনো বড় উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।
শুক্রবার (২০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাধারণত রমজান শেষে মুসলিম বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে খোলা ময়দানে বা ‘ঈদগাহে’ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়া একটি দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য। তবে কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংঘাত এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এই বছর বড় জনসমাগম এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারগুলো জননিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আল-জাজিরা তাদের দুবাই প্রতিনিধি জেইন বাসরভির বরাতে জানিয়েছে, খোলা মাঠে নামাজ পড়ার এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য স্থগিত করা প্রমাণ করে যে চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, আজ ভোরে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করেছে।
কুয়েত জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। কুয়েত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির একটি শোধনাগারে আজ সকালে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে এর কয়েকটি ইউনিটে আগুন ধরে যায়।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে ছোড়া হয়েছে। একটি গুদামে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরব জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে তারা ২০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া দেশটির পূর্ব প্রদেশেও বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো ঘোষণা করেছে, ঈদের নামাজ কেবল মসজিদের ভেতরেই আদায় করতে হবে।










