spot_img

সৌদি আরবে বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা; ১২ মার্কিন সেনা আহত

সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে পরিচালিত এই হামলার বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা।

আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ইরান এই অভিযানে একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা সরাসরি মার্কিন সেনাদের আবাসন ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সুরক্ষিত এই ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ছবিতে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং সংলগ্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ঘরোয়া প্রযুক্তির নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই আঘাত হেনেছে।

হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তা নিয়ে এখন পেন্টাগনের অভ্যন্তরে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।

এই হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং এটি তেহরানের পক্ষ থেকে একটি কড়া পাল্টা জবাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও সহযোগী দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ