ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের আমিরুল মু’মিনীন বা সর্বোচ্চ নেতা শাইখুল হাদিস মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা বলেছেন, আল্লাহ তাআলার দ্বীন ও শরিয়তের খেদমত করতে হবে। আল্লাহ তাআলা এখন একটি উত্তম সুযোগ এনে দিয়েছেন এবং সেবার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছেন। তাই প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে এবং সব কাজের লক্ষ্য হবে আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করা।
আফগানিস্তানের কান্দার প্রদেশের দক্ষিণ জোনের হাজীদের প্রশিক্ষক ও হজ্ব মিশনের সদস্যদের জন্য আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী সংশোধনী ও প্রশিক্ষণমূলক সেমিনারে তিনি এসাব কথা বলেন।
হাজীদের সেবায় নিয়োজিতদের উদ্দেশে মাওলানা হিবাতুল্লাহ বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে উত্তম চরিত্র প্রদর্শন ও আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার জন্য। কোনোভাবেই যেন অবহেলায় সময় নষ্ট না হয়। নিয়তগুলো শুদ্ধ রাখতে হবে। আপনাদের ওপর একটি বড় দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। নিজেদেরকে সেবক হিসেবে ভাবতে হবে। কারণ এখন আপনাদেরকে সেবকের দায়িত্বে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা করুন। মানুষ আপনাদের কাছ থেকে অধিক সেবার প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, হজ্ব আল্লাহ তাআলার একটি মহান ফরজ ইবাদত। এতে আপনাদের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে, একটি নিজের হজ্ব আদায়ের, আরেকটি হাজীদের সেবা করার।
তিনি আরও বলেন, হজ্বের মূল উদ্দেশ্য হলো নফসের সংশোধন, আর এ উদ্দেশ্যেই হজ্ব ফরজ করা হয়েছে। হজ্ব আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক মহান রহমত এবং উচ্চ মর্যাদা, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। হজ্বের পর কোনো হাজীর মধ্যে বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি হওয়াই কবুল হজ্বের লক্ষণ।
আফগান আমিরুল মু’মিনীন বলেন, হাজীদের প্রশিক্ষক ও হজ্ব মিশনের সদস্যদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যে, তারা হাজীদের উত্তমভাবে সেবা করবে। এখন আপনাদের ওপর দায়িত্ব হলো, হাজীদের হজ্ব-সংক্রান্ত সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তাদের সহযোগিতা করা। সেমিনারে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং হজ্ব ও ধর্ম বিষয়ক দপ্তরের যে নীতিমালা রয়েছে, তা হজ্ব পালনের সময় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ হজ্ব সম্পর্কে অভিজ্ঞ নয়। তাদের মধ্যে অসুস্থ, দুর্বল ও বয়স্ক লোকও থাকেন। তাই আপনাদের উচিত তাদের সব বিষয়ে খেয়াল রাখা, যাতে তারা হজ্বের বিধি-বিধান সঠিকভাবে পালন করতে পারেন। তাদের হজ্বের ফজিলত সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং মাকরুহ ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে বিরত রাখতে হবে। আপনারাই তাদের পথপ্রদর্শক, তাই যথাযথভাবে দিকনির্দেশনা দিন এবং হাজীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিন, হে হাজীগণ! চেষ্টা করুন, যেন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব ও আদবসহ হজ্ব সুন্দরভাবে আদায় করতে পারেন এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও জিকিরে মনোযোগী থাকেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, অহংকার করবেন না, বিনয় অবলম্বন করুন। সেবা করা বিনয়েরই লক্ষণ। মুসলমানদের সেবা করা এক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করুন। মানুষের মানসিক সংশোধনের চেষ্টা করুন এবং তাদের শরিয়তের বিধান সম্পর্কে সচেতন করুন। এই হাজীরা এখন আপনাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তারা আপনাদের কথার প্রতি মনোযোগ দেয়। এই হাজীরা আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে অর্পিত হয়েছে। তাই তাদের যথাযথভাবে সেবা ও যত্ন করুন। নিজেদের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ ও নসিহত চালিয়ে যান।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক সহকারী, হজ্ব ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পেশাগত উপমন্ত্রী, কান্দাহার প্রদেশের হজ্ব ও ধর্ম বিষয়ক বিভাগের প্রধান, দক্ষিণ জোনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা এবং আলেম-ওলামা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
সেমিনারের শেষে উপস্থিত আলেমরা আফগান আমিরুল মু’মিনীনের প্রতি তাদের বাইয়াত ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা প্রতিশ্রুতি দেন, নিজেদের নেতৃত্ব ও শরিয়তভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি তারা অতীতের মতোই দৃঢ় সমর্থক থাকবে।
সূত্র: আরটিএ











