ভারতের আসামে চারজন মুসলিমকে নির্মমভাবে মারধর করেছে উগ্র হিন্দুত্বাবাদীরা। এ ঘটনায় তিনজন মুসলিম মারা গেছেন, আরও একজন মৃত্যুুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
আসামের নগাঁও জেলার কলিয়াবর কো-ডিস্ট্রিক্টের রূপহীহাট থানার অন্তর্গত ১ নম্বর কাঠপাড়া গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শাসনামলে আসামে মুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্রমাগত কোণঠাসা করার যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, এই ঘটনা তারই এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নগাঁও জেলায় মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে নগাঁও এবং ২০২৩ সালে মরিগাঁওয়ে গরু চোর বা চুরির সন্দেহে মুসলিমদের পিটিয়ে মারার নজির রয়েছে। উল্লেখ্য, এই নগাঁও জেলাই ১৯৮৩ সালের কুখ্যাত ‘নেল্লি গণহত্যা’র সাক্ষী, যেখানে হাজার হাজার বাঙালি মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যার বিচার আজও অধরা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং কয়েক দশক ধরে আসামে মুসলিমদের অমানবিকীকরণের যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা চলছে, এটি তারই পরিকল্পিত ফল।
২০২১ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত আসামে এক ভয়াবহ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে ২২,০০০-এর বেশি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০,০০০-এর বেশি মুসলিম পরিবারকে তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শোণিতপুরে ১,২০০ ঘরবাড়ি এবং ফেব্রুয়ারিতে হাইলাকান্দিতে ৫১৬টি ঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।











