পাকিস্তানের আফগানিস্তান নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।
তিনি বলন, গত চার দশক ধরে ইসলামাবাদ প্রায়ই প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ ব্যবহার করেছে। এই কৌশল ধারাবাহিকভাবে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং সহিংসতার চক্রকে উসকে দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন তিনি। চিঠিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আফগান ভূখণ্ডে হামলাগুলোর প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হামিদ কারজাই।
তিনি এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বলেন, এগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে।
কারজাই বলেন, এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আফগানিস্তানের জাতীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তপারের এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তা ইতোমধ্যেই অস্থির অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেল ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগিয়ে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন প্রতিরোধ করা যায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় পদক্ষেপ উত্তেজনা কমাতে পারে এবং গভীরতর আঞ্চলিক সংকট এড়াতে সহায়তা করতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে কারজাইয়ের এই মন্তব্য এসেছে। সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই কূটনৈতিক উদ্যোগ না থাকলে এই সীমান্ত বিরোধ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা উভয় দেশের শান্তি প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
কারজাইয়ের এই আহ্বান দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন। বিশেষ করে, দীর্ঘ সংঘাতের পর আফগানিস্তান যখন পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে এবং পাকিস্তান নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ











