spot_img
spot_img

আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানকে নৌ-অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের

ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না আসায় ওয়াশিংটন এখন তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ইরান যদি আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে।

ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই নিবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করা হলে তা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলবে। বিশেষ করে ইরান থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশটির আয়ের প্রধান উৎসটি বন্ধ হয়ে যাবে।

এর ফলে চীন ও ভারতের মতো যেসব দেশ ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চাপ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও এই নিবন্ধটি শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি ইরানের প্রতি তাঁর ভবিষ্যৎ কঠোর নীতির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, এই কৌশলটি মূলত ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া মার্কিন পদক্ষেপেরই একটি প্রতিফলন। অতীতে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও আমেরিকা এমন অবরোধের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল।

এখন ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তেহরানকে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ধরনের নৌ-অবরোধ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমুদ্রসীমাতেও এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ