পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে বাংলার আবহমানকালের ঐতিহ্যের ওপর বিজাতীয় ও সুনির্দিষ্ট একটি ধর্মের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ জাকির বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর আলম আকন্দ বলেন, কয়েক দশক আগে আমদানিকৃত কোনো প্রথাকে বাঙালির শাশ্বত সংস্কৃতি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা এদেশের আপামর জনতা মেনে নেবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে তথাকথিত ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে রূপান্তর করা হয়। এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, মুখোশ এবং হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করে যে মূর্তিবাদী সংস্কৃতির চর্চা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই এদেশের আপামর মুসলিম জনসাধারণের নিজস্ব সংস্কৃতি হতে পারে না।
তারা আরও বলেন, বাঙালি মুসলিমদের হাজার বছরের একটি নিজস্ব গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। অথচ সুকৌশলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্মীয় রীতিকে ‘বাঙালিয়ানা’র মোড়কে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মঙ্গল কামনা বা অমঙ্গল দূর করার বিশ্বাস মূলত আকিদাগত বিষয়, যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মৃতপ্রায় ও আমদানিকৃত এই হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিকে এদেশের মাটি ও মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস বলে দাবি করা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নেতৃবৃন্দ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কৃতির নামে শিরক ও বিজাতীয় আচারের প্রচার বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে এবং মুসলিম সন্তানদের ঈমান-আকিদা সুরক্ষায় শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্র এই অপসংস্কৃতির চর্চা নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জন করে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে সুস্থ ও মার্জিত সংস্কৃতি লালনের আহ্বান জানান।











