পাকিস্তানের জামিয়া তুর রশীদের মুহতামিম মুফতি আব্দুর রহীম ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, আঞ্চলিক সংঘাত, গাজ্জার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে তাকে নোবেল প্রাইজের জন্য মনোনীত করা উচিত বলে তিনি মত দেন।
মুফতি আব্দুর রহীম বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই। তবে তার মতে, বড় পরিসরে ভারতের সঙ্গে সংঘাত এক পর্যায়ে থামাতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি দাবি করেন, সংঘাতের সময় ভারতীয় সামরিক সক্ষমতার ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত না করে সীমিত পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, মানবিক বিবেচনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুফতি আব্দুর রহীম আরও বলেন, গাজ্জায় চলমান নিপীড়ন বন্ধে বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টা থাকলেও তার দৃষ্টিতে আসিম মুনিরের উদ্যোগ ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। তার বক্তব্য, এ প্রচেষ্টার ফলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি হয় এবং বড় মাত্রার যুদ্ধ থামানো সম্ভব হয়। যদিও এখনো সেখানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একইসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল এবং উপসাগরীয় অঞ্চল বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কার সঙ্গেও তুলনা করছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুফতি আব্দুর রহীম বলেন, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেকেই চেষ্টা করেছেন। তবে তার মতে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুসংগঠিত, ধারাবাহিক ও আন্তরিক চেষ্টা ছিল ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব তাকে এ স্বীকৃতি দিক বা না দিক, তাদের দৃষ্টিতে তিনি নোবেল প্রাইজের যোগ্য। এজন্য দেশ, জনগণ, রাষ্ট্র ও পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে তাকে মনোনীত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
মুফতি আব্দুর রহীম জানান, করাচিভিত্তিক এক যুবসংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম এ প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এ দাবির পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান চালানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।











