বর্তমান সরকার দেশে গণতন্ত্রের বদলে ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অপেক্ষা করেছিলাম যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা গণতন্ত্রের বদলে জিয়াতন্ত্র। তারা আমাদের ব্যাংকগুলো দখল করেছে; সংসদ ও দুদক দখল করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বাসায় হামলা চালাচ্ছে। জনগণের যে অধিকার রয়েছে এবং যে ভিত্তিতে জনগণ ভোট দিয়েছিল, সেই অধিকারের বদলে এখন জনগণের হাতে বালতি ও সিরিয়াল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা চেয়েছিলাম যাতে বাংলাদেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ থাকে। আজ একজন ব্যবসায়ী আমাদের বলেছেন, সন্ধ্যা ৬টার পর যখন দোকানে ক্রেতা আসে, তখন সরকার তার দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। পেট্রোল পাম্পের সামনে এক পাঠাও-উবার চালক আমাকে বলছিলেন, তিনি বাইক চালিয়ে টাকা আয় করে গ্রামে বাচ্চার কাছে পাঠান। এখন তেলের জন্য সারা দিন সিরিয়াল ধরে থাকতে হয়। যখনই পেট্রোল পাম্পের সামনে যান, বলা হয় তেল নেই। আবার সন্ধ্যায় সিরিয়াল ধরলেও তখনও বলা হয় তেল নেই। তাহলে তিনি সংসার চালাবেন কীভাবে?
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, আমরা যখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, দুদক, বিচার বিভাগ, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার চেয়েছিলাম, সেখানে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার চিরচেনা অভ্যাসবশত ‘হাওয়া ভবনের’ ভাই-ব্রাদারদের নিয়ে এসেছেন। কাউকে দুদকে, কাউকে বাংলাদেশ ব্যাংকে, কাউকে বিচারালয়ে, কাউকে পুলিশ প্রশাসনে আবার কাউকে সংসদে বসিয়েছেন। তাদের দায়মুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, তোমরা যা ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে করতে পারো, তোমাদের ‘গ্রিন কার্ড’ দিয়ে দিলাম।
প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই যদি হয় জিয়াউর রহমানের সন্তানের ভবিষ্যৎ, তবে সেই ভবিষ্যতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে ওসান হাদীর পথে, আমাদের ৭১-এর শহীদদের পথে এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পথে। যদি সেই পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা তাদের প্রতিরোধে প্রস্তুত।











