আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৫ মে) বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। এ সময় তিনি একই সঙ্গে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কান্ট্রি অফিস খোলার চুক্তি বাতিলে কার্যকর পদক্ষেপ সহ ১০ দফা দাবি জানান।
মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে মাত্র ৬টি শর্ত। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নয়, বরং গোলামির চুক্তি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে গোপনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, এলএনজি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জুলাই সনদ সম্পর্কে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদ সম্পর্কে আমাদের দলীয় অবস্থান যেমন ছিল এখনও তেমনই আছে। অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিতে সংবিধান ও জুলাই সনদ দুটোই রাষ্ট্রের জন্য সমান ভাবে প্রয়োজনীয়। কেবলমাত্র একটির প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে অপরটিকে ছুঁড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত আমাদের দৃষ্টিতে কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালসহ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার স্বার্থে যৌক্তিক যে সকল প্রস্তাব বা সংস্কারে উপস্থিত সব রাজনৈতিক নেতারা নোট অব ডিসেন্টসহ একমত হয়েছেন আমরা সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। তা না হলে এটা হবে জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ ও ভারতের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দলটি সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশ ও বিতর্কিত চুক্তি বাতিল, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা,জুলাই হত্যা, পিলখানা ও শাপলা ট্রাজেডির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি।
এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চামড়া শিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার,মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদদীন যাকারিয়া, মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা ড. শুয়াইব আহমদ,মাওলানা মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী,মাওলানা মাওলানা জয়নুল আবেদীন,জয়নুল আবেদীন,মাওলানা লোকমান মাযহারী, মুফতি নাছির উদ্দিন খান,মুফতি আফজাল হোসাইন রাহমানী,মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, মুফতি গোলাম মাওলা,মাওলানা হাসান আহমদ,রিদওয়ান মাযহারী প্রমুখ।











