যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণ গাজ্জা উপত্যকায় আরও ৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আইডিএফ।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজ্জা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে ইয়েলো লাইন সীমান্ত অতিক্রম করতে থাকা ২ ফিলিস্তিনিকে তাদের সদস্যরা দেখতে পায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তর গাজ্জা উপত্যকায় কার্যরত ৪৫৪তম ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা গত রাতে ইয়েলো লাইনের কাছে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিকে দেখতে পায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তি তাদের সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। এরপর তাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েলো লাইন বলতে গাজ্জার ভেতরের সেই সীমারেখাকে বোঝায়, যেখানে উপত্যকার যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী সরে গিয়েছিল। এই রেখা গাজ্জার ভেতরে পূর্ণ ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোকে অন্য এলাকা থেকে আলাদা করে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রায় প্রতিদিনই গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮৮৩ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৬৪৮ জন আহত হয়েছেন।
চুক্তিটির উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের দুই বছরের যুদ্ধ বন্ধ করা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বেসামরিক অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর











