ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হওয়ার মধ্যে ফিলিস্তিন প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত এবং আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো নমনীয়তা আসবে না।
ওয়াশিংটনে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর পাকিস্তান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-আমেরিকা সমঝোতার আলোচনার সঙ্গে আব্রাহামি চুক্তির বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এর পর থেকেই পাকিস্তানের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতার ভূমিকাকে সামনে রেখে পাকিস্তান কি ইসরাইলের বিষয়ে পুরোনো অবস্থান বদলাতে যাচ্ছে।
এই গুঞ্জনের জবাবে ইসহাক দার বলেন, আব্রাহামি চুক্তি নিয়ে অনেক গুজব ছড়াচ্ছে। পাকিস্তানের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত এবং আল-কুদসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো নমনীয়তা আসবে না।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ফিলিস্তিন ও গাজ্জা প্রশ্নে নিজের পুরোনো অবস্থানে অটল আছে। ইসরাইলকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে হবে। এর আগে পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের প্রশ্ন আসে না।
ইসহাক দারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, আব্রাহামি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে গুঞ্জন উঠেছে, ইসলামাবাদ তা প্রশমিত করতে চাইছে। একই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক, ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে নীতিগত অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন দার। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তির পক্ষে কাজ করছে। দীর্ঘ বিরতির পর আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি বসানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের নেতৃত্বে পাকিস্তান বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি পেয়েছে। পাকিস্তানকে বিশ্বে একঘরে করার ভারতীয় নীতি ব্যর্থ হয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, কাশ্মীরি জনগণকে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের অধিকার দিতে হবে। একইভাবে ফিলিস্তিনের বিষয়েও পাকিস্তান নিজের নীতিগত অবস্থানে অটল থাকবে।
মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র : রয়টার্স, ডন, জিও নিউজ উর্দু, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি











