ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বিদেশি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর ইরানের সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের প্রশাসন দেশের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।
রবিবার (৩১ মে) ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে একই দিন ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পেজেশকিয়ান তার পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডের কট্টরপন্থি অংশগুলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পরিচালনা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ কার্যকর করার অনুমতি চেয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে ইরানের সরকারি অবস্থান ভিন্ন। ইরনা জানিয়েছে, সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ সংক্রান্ত গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, পেজেশকিয়ানের প্রশাসন কঠিন সময়ে ইরানি জনগণের পাশে থাকার বিষয়টি প্রমাণ করেছে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
একই দিনে ইরান প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জাতীয় সংহতি, জনসচেতনতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান জটিল পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সরকার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান বলেন, দেশ এখন সাধারণ কোনো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না। বিদ্যমান চাপ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে কম ক্ষতি ও কম ব্যয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও নির্বাহী সংস্থাগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইসরাইল জোটের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভারসাম্য নিয়ে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
তবে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন, এমন কোনো সরকারি ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। তাই বিষয়টি এখনো বিদেশি গণমাধ্যমের দাবি এবং ইরানের সরকারি অস্বীকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল, ইরনা, ইরান প্রেস, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট











